
স্টাফ রিপোর্টার:॥
শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নে একটি গায়ে হলুদের যাত্রাপথে প্রবাসী পরিবারের ওপর পরিকল্পিত হামলা করেছে সংঘবদ্ধ চক্র। গতকাল ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে ওই ইউনিয়নের রাড়া থেকে কুলশী যাওয়ার পথে উয়ারুক ভূঁইয়া বাড়ী নামক স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী সংঘবদ্ধ চক্র একটি অটোরিক্সা দিয়ে যাত্রাপথ গতিরোধ করে। চক্রটি পরে প্রবাসী যাত্রীদের মারধর করে মোবাইল ও স্বর্ণালংকার লুট করে।
হামলায় আহতরা হলেন, প্রবাসী কাজী বদরুদ্দোজা (২৮), মায়া বেগম (৫২), মঞ্জুর আলম কাজী (২৪), সফিউল্লাহ মানিক (৪৬) ও সিএনজি চালক ইয়াছিন আরাফাত (৩০)। আহতদের কয়েকজনকে উয়ারুক বাজারের মেডিল্যাব হসপিটাল, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।
এ ঘটনায় প্রবাসী পরিবারের পক্ষে জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উয়ারুক গ্রামের মহিন উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, শাহাদাত হোসেন, রাকিব, ইসমাইল হোসেন, সিফাত, ইবাদ, রায়হান, লিটন, শরীফ ও রাহেলা বেগমকে বিবাদী করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের রাড়া গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী কাজী শফিকুল ইসলামের পরিবার তিনটি সিএনজি যোগে পাশ্ববর্তী কুলশী গ্রামে আত্মীয় ডা. মাজহারুল ইসলাম রুবেলের গায়ে হলুদের যাচ্ছিল। যাত্রাপথে উয়ারুক ভূঁইয়া বাড়ীর সামনে সংঘবদ্ধচক্র একটি অটোরিক্সা দিয়ে গতিরোধ করে। পরে তারা হেডলাইটের অজুহাত দিয়ে অটোচালক মহিন উদ্দিন সূজনের নেতৃত্বে হামলা করে। ওইসময় প্রবাসী পরিবারের কয়েকটি মোবাইল ও কয়েক ভরি স্বর্ণ লুটে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।
আমেরিকা প্রবাসী কাজী শফিকুল ইসলাম জানান, ‘সংঘবদ্ধ চক্র পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা করেছে। আমার পরিবারের সব সদস্য আমরিকান প্রবাসী। হামলার সময় গ্রামবাসী ডাক-চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে প্রাণে রক্ষা পায় আমার পরিবার।’
তিনি আরো জানান, ‘বিবাদীরা মামলা করায় হুমকী প্রদর্শন ও মামলা প্রত্যাহারের জন্য আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হংকার দিয়েছে। আমরা প্রবাসে থাকি। নিজের দেশে এসে পুরো পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। আমরা বিবাদীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।’
জানতে চাইলে এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘অটোরিক্সা ও সিএনজির মুখোমুখী লাইটিং নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে উয়ারুক ও রাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনায় প্রবাসী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা নেয়া হয়েছে। এখন যদি বিবাদীরা হুমকী দিয়ে থাকে তাহলে প্রবাসীর পরিবার আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।’
