সম্পত্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৪ ব্যক্তি গুরুতর আহতসহ বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি গত ১৯ অক্টোবর রোববার রাত ৯টায় শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের চিতোষী গ্রামে ঘটে। জানা যায়, ওই গ্রামের পূর্ব পাড়ার ছলিমের বাড়িতে রাতের অন্ধকারে দলবল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এতে ৪ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়। আহতদের ওই রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তিকৃতরা হলেন, মৃত আব্দুস ছলিমের স্ত্রী ফরিদা খাতুন ও তার ৩ পুত্র আঃ মালেক, আনোয়ার হোসেন এবং বিল্লাল হোসেন। এ ঘটনায় আব্দুস ছলিমের পুত্র দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ২২ জনকে বিবাদী করে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-৯/১৩১, তারিখ- ২০/১০/২০১৫ ইং।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, রাতের অন্ধকারে বেআইনি জনতা কর্তৃক ঘরে অনধিকার প্রবেশ, মারধর, ভাংচুর, লুটতরাজ, জখম, শ্লীলতাহানি, খুন করার চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় উক্ত মামলায় -১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৫৪/৩৮০/৪২৭/৫০৬(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর এসআই ফারুক আহমেদকে তদন্ত পূর্বক মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ প্রদান করেন থানার ওসি(তদন্ত কর্মকর্তা) মোঃ দিলদার আজাদ। মামলার এজাহারভূক্ত আসামিরা হলেন, মৃত কপিল উদ্দিনের পুত্র আব্দুল হান্নান, ইব্রাহিম ও ইকবাল, আব্দুল হান্নানের পুত্র শ্যামল ওরফে ছামল ও ইয়াছিন, আব্দুর রহমানের পুত্র সাগর, মৃত শামছুল হকের পুত্র পেয়ার আহমেদ, মৃত হাফেজ আবুল খায়েরের পুত্র গিয়াস উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিনের পুত্র সোহাগ ও সাদ্দাম, নুরুল ইসলামের পুত্র সূজন, সেলিমের স্ত্রী রেনু বেগম, আঃ লতিফের কণ্যা কুসুম বেগম, নুরু মিয়ার স্ত্রী সেলিনা বেগম, নুরুল ইসলামের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, কামালের স্ত্রী কামরুন নাহার, খোরশেদের স্ত্রী জোসনা বেগম, আঃ লতিফের পুত্র নুরু মিয়া, আঃ হান্নানের স্ত্রী পারুল বেগম, মৃত আবুল কাশেমের পুত্র খোরশেদ আলম, সর্ব সাং- চিতোষী এবং পার্শ্ববর্তী জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মৃত জিন্নাত আলীর পুত্র মিঠু মিয়া ও তার পুত্র সেলিম মিয়া।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের পৈত্রিক জায়গার উপর আমরা বসবাস করে আসছি। প্রতিপক্ষ আসামিগণ ওই জায়গায় মালিকানা দাবী করে বিভিন্ন ভাবে মামলা হামলা করে আমাদের হয়রানি করছে। ঘটনার দিন রাতের অন্ধকারে তাদের বর্বরচিত হামলায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউই রেহাই পায়নি তাদের কাছ থেকে। তারা মারধর, লুটপাট এমনকি ঘরের নারীদের শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছে। যে কারণে নিজেদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত সহায়তা নিতে বাধ্য হয়েছি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসি বলেন, সম্পত্তিগত বিরোধ তাদের সাথে দীর্ঘদিনের হলেও যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তির হস্তক্ষেপ না থাকায় প্রতিনিয়তই ঘটছে পক্ষে-বিপক্ষে মারামারি-হানাহানি এবং অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এদের বিবাদমান সমস্যার সমাধানে উভয় পক্ষকে আন্তরিক ও এলাকার গণ্যমান্যের একান্ত ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

