শাহরাস্তি ব্যুরো ঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সম্পত্তি বিরোধে এক ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্প্রতিবার সকালে উপজেলার মেহের উত্তর ইউপি’র দেবীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আইনী সহযোগিতা প্রার্থণা করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের মুন্সি বাড়ির মৃত সোনা মিয়ার পুত্র আবুল কাশেম (৭৫) দেবীপুর মৌজার ২৫৯ ও ২৬৩ নং দাগের ১২ শতাংশ ভূমির খরিদা সূত্রে মালিক দখলকার। ওই সম্পত্তির পশ্চিম পার্শ্বে কালিয়াপাড়া-কচুয়া সড়ক সংলগ্ন জেলা পরিষদের সম্পত্তি রয়েছে। যা মেহের উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেনের পরিবার ভোগ দখলে আছে। আবুল কাশেমের খরিদা সম্পত্তিতে প্রতিপক্ষদের সম্পত্তি রয়েছে মর্মে দাবি করে তার রোপনকৃত গাছ গাছালি জোরপূর্বক কেটে নেয়ার চেষ্টা চালায়। ওই সময় আবুল কাশেম তাদের বাঁধা প্রদান করলে ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তাকে মারধর ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকী প্রদর্শণ করেন। আহত আবুল কাশেমকে পরিবার লোকজন উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আহত আবুল কাশেম ওই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিব উল্যাহ মারুফ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আহত আবুল কাশেম জানায়, আমি ১৯৯৩ সালে জনৈক আলী মিয়া থেকে ১২ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করে ভোগ দখলে আছি। ওই সম্পত্তির পাশে জেলা পরিষদের সম্পত্তি রয়েছে। যা বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেনদের দখলে রয়েছে। কিন্তু তারা জোরপূর্বক আমার সম্পত্তির মধ্যে তাদের সম্পত্তি রয়েছে মর্মে ওই স্থান হতে গাছ কাটার চেষ্টা করলে বাঁধা প্রদান করি। প্রথমে মনির হোসেনের বোন জুলেখা বেগম ঘটনাস্থলে আসলে আমাদের সাথে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয় এবং শ্রমিকদের মজুরী দিতে বলে। আমরা তা মেনে নিয়েছি। কিন্তু কিছু সময় পর চেয়ারম্যান নিজে ঘটনাস্থলে এসে আমাকে হুমকি ধমকী দেয় এবং মারধর শুরু করে। আমি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক আইনগত সহযোগিতা প্রার্থণা করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন জানান, আমি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। যে সম্পত্তি নিয়ে কথা উঠেছে ওই সম্পত্তি প্রায় ১শ বছর যাবত পর্যায়ক্রমে আমাদের পরিবারের লোকজন ভোগ দখলে আছে। আমি তার সম্পত্তির ভিতরে প্রবেশ করিনি আমার সম্পত্তির ভিতরের গাছ কাটার জন্য লোক নিয়োগ করি। আবুল কাশেম সহ তার লোকজন তাদের বাঁধা প্রদান করে। আমি তাকে কোন প্রকার মারধর করিনি। তিনি আমার পিতৃতুল্য, অহেতুক কিছু লোক আমাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তাকে দিয়ে মানহানি করার অপচেষ্টা করছে। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে মারধরের মতো হীন কাজ করা কখনোই আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
শিরোনাম:
বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
