
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট: মাতৃভাষা বাংলার জন্য জীবন বিলিয়ে দেয়া শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছে চাঁদপুরবাসী। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয় শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। যদিও করোনার কারণে মানুষের উপস্থিতি অন্যবারের চেয়ে কিছুটা কম। জেলা সদরের পাশাপাশি করোনাভাইরাস সতর্কতার মধ্যেই জেলাজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
করোনাভাইরাসের কারণে এবার ভিন্ন আবহের মধ্যে একুশের প্রথম প্রহরে মুকে মাস্ক পরে প্রশাসন ও রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়।
কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগেই জানিয়েছে, সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও ন্যূনতম সামাজিক দূরত্ব মেনে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে। ফলে এবার এক ভিন্ন আবহ শহীদ মিনার এলাকায়। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অনেকটা উপস্থিত হতে দেখাগেছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিলো খুবই কম।
শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। এর মধ্যে শহরের বিভিন্ন চত্বর ও মোড় এবং সড়ক বর্ণামলা ও ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হয়। স্বাস্থ্য বিধি মেনে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় দিবসের কর্মসূচি পালন, ভোরেই সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন করা হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অনলাইনে বই পাঠ, কবিতা পাঠ, রচনা প্রতিযোগিতা ও দিবসের তাৎপর্যের উপর আলোচনার আয়োজন করা হয়। দুপুরে মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনা। বিকেলে জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার আয়োজনে চিত্রাংকন, সংগীত ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা। জেলা কালচারাল অফিসারের আয়োজেন শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ এই প্রত্যয়ে অনেকে শহীদ মিনারে শিশুদেরকে নিয়ে আসতে দেখাগেছে। ফুল নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে শিশুরাও। শিশুরা ছবি তুলছেন পিতা-মাতা ও স্বজনদের সাথে। শিশুদের মনের মধ্যে কৌতহল একুশ মানে কি! যদিও বই এর মধ্যে পড়ছে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
করোনা পরিস্থিতির আগে বিগত বছরগুলোতে শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে চাঁদপুর শহরের স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন ছিলো চোখে পড়ার মত। কারণ ছাত্ররাই মাতৃভাষার জন্য অগ্রণি ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলন সংগ্রাম বেগবান করেন।
এদিকে শহীদ দিবস ও আর্ন্তাজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও চাঁদপুর জেলা বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠন। এছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন দিবস উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ। সেদিন ভাষা আন্দোলন দমন করতে তৎকালীন সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করেন। সেই মিছিলে গুলি চলে। শহীদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের রক্তের দামেই আসে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি। আর তার সিঁড়ি বেয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা, যার নেতৃত্ব দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির এই আত্মত্যাগের দিনটি এখন আর বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়; ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে সারা বিশ্বে। বাঙালির ভাষার সংগ্রামের একুশ এখন বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার দিন।
চাঁদপুরনিউজ/এমএমএ/
