মিজানুর রহমান রানা
পাষণ্ড স্বামী রিপন গাজীর দেয়া আগুনে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ঝলসে গেছে জেসমিন আক্তার (২০)। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চাঁদপুরের পশ্চিম জাফরাবাদ গ্রামের গাজী বাড়িতে এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গত প্রায় দু’বছর আগে চাঁদপুর সদরের বাবুরহাট এলাকার মৈশাদী গ্রামের জাহাঙ্গীর ডাক্তারের মেয়ে জেসমিন আক্তারের সাথে চাঁদপুর সদরের পশ্চিম জাফরাবাদ গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে রিপন গাজী (২৮)-এর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ক’মাস যেতে না যেতেই জেসমিন আক্তারের স্বামী রিপন গাজী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে জেসমিন আক্তারের পিতার নিকট টাকা-পয়সা দাবি করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জেসমিন আক্তারের পিতা তার
জামাতা রিপন গাজীকে তার চাহিদা মতো মাঝে মাঝে টাকা-পয়সা দিতেন। আর রিপন গাজী সেই টাকা-পয়সা জুয়াখেলে উড়িয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে আরো টাকার জন্য জেসমিনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতো। জেসমিনের পিতা পরবর্তীতে টাকা-পয়সা দিতে অনীহা প্রকাশ করায় রিপন গাজী জেসমিনকে মাঝে মধ্যে বেধড়ক মারপিট করতো।
এদিকে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে, রিপন গাজী জুয়াখেলার পাশাপাশি পরকীয়া প্রেমেও আসক্ত। সে তার জেসমিনের মেঝো জা’র বিবাহিতা বোন জানু বেগমের (২১) সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত রয়েছে। ফলে জেসমিনকে যৌতুকের টাকা ও পরকীয়া প্রেমের জন্য ঘরছাড়া করার বাসনায় মেতে ওঠে। গত মঙ্গলবার সকালে রিপন গাজীর পরকীয়া প্রেম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জেসমিনের সাথে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে রিপন গাজী ঘরে রাখা কেরোসিন তেল জেসমিনের গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জেসমিনের আত্মচিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এলেও রিপন গাজী ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে তার আত্মীয়-স্বজন জেসমিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে চাঁদপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কর্তব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন, জেসমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকার বার্ণ হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন।
এদিকে আরো জানা গেছে, জেসমিনের এক মাত্র পুত্র সন্তানকেও ঘটনার সময় কান্নারত অবস্থায় তার পাষণ্ড স্বামী লাঠি দিয়ে কানে ও শরীরে আঘাত করায় তার কানের পর্দা ফেটে মারাত্মক জখম হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্যে তার মায়ের সাথে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
