মিজান লিটন
স্ত্রী ও সন্তানদের ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে তাদের খোঁজখবর ও ভরণ-পোষণ না দেয়ায় স্বামীর বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন গৃহবধূ আনোয়ারা বেগম। স্কুল পড়ুয়া ১২ বছরের মেয়ে ও সাড়ে ৩ বছরের ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন আনোয়ারা বেগম। এমনই এক অমানবিক করুণ দৃশ্য দেখা গেছে মতলব পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চরপাথালিয়া গ্রামে। তাদের এ করুণ ও মানবেতর জীবনযাপনের দৃশ্য বাস্তবে কেউ না দেখলে বিশ্বাস করবে না। এ অবস্থার কারণ হচ্ছে আনোয়ারা বেগমের স্বামী ওয়ালী উল্লাহ প্রধান দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন।
আনোয়ারা বেগম মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার হুগলাকান্দি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। বিগত প্রায় ১৪ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাদের দুজনের। এ অবস্থায় স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় এ পরিবারটির জীবন এখন কোনোরকম চলছে। আর ১২ বছরের মেয়েটিকে মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় লেখাপড়া করাচ্ছে।
নির্যাতিতা আনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, আমি বিয়ের পূর্বে গার্মেন্টেসে চাকুরি করতাম। বিয়ের পরও ৫/৬ বছর সেখানে চাকুরি করেছি এবং স্বামীসহ বাসা ভাড়া করে বসবাস করতাম। আমার স্বামী ট্রলার কিনবে এবং ব্যবসা বাণিজ্য করবে এ কথা বলে আমার পরিবারের কাছ থেকে ৪ লক্ষাধিক টাকা যৌতুক নেন এবং আমাকে চাকুরি ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পরে আমি চাকুরি ছেড়ে স্বামীর বাড়িতে চলে আসি। এখানে আমাদের সংসার জীবনে কয়েকটি বছর সুখে-শান্তিতে কাটলেও পরবর্তীতে আবারো টাকার জন্য স্বামী আমার ও আমার পরিবারের উপর চাপ প্রয়োগ করেন। টাকা দিতে না পারায় প্রায়সময় আমাকে বেধড়ক মারধর করতো। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিসও হয়েছে। তিনি আরো জানান, গত প্রায় ১ বছর পূর্ব থেকে আমার স্বামী মতলব উত্তর উপজেলার গাজীপুর গ্রামের তার মামাতো বোন রহিমার সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তুলেন। বিষয়টি জানাজানি হলেও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এ ঘটনা নিয়েও আমার স্বামী আমার উপর শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। গত কয়েকদিন পূর্বেও সে আমাকে ঘরের ভেতর হাত পা বেঁধে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করে। বাড়ির ও আশপাশের লোকজনের সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পাই। এলাকাবাসী আমাকে দ্রুত মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে ভাসুর ও ভাসুরের স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পারি সে তার মামাতো বোনকে বিয়ে করেছে।
এলাকাবাসী জানান, ওয়ালী উল্যাহ তার প্রথম স্ত্রী আনোয়ারাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমাকে ঘরে আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আনোয়ারা রাজি না হওয়ায় তার উপর বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করে এবং গত ৬/৭ মাস ভরণ-পোষণ দেয় না। এছাড়া প্রথম স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করছে বলেও তারা জানান।
প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করায় এবং স্ত্রী সন্তানদের খোঁজ খবর ও ভরণ-পোষণ না দেয়ায় স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন প্রধান ও মোল্লা মোঃ জাকিরসহ এলাকার গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিস হয়। স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের দিক বিবেচনা করে উভয় পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হয় তাই ওয়ালী উল্লাহ মেনে নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে সে সবকিছু অস্বীকার করে। পাষণ্ড, লম্পট ও নারী লোভী ওয়ালী উল্লাহর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সরজমিনে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে এলাকার সচেতন মহল দাবি করেন।
