প্রতিনিধি কচুয়া উপজেলার পালাখাল গ্রামের নূর হোসেনের স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী রুনা বেগমের (২২) মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়েও এলাকাবাসীর মাঝে যেনো কৌতূহলের শেষ নেই। কথিত আছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ রুনা বেগম বিষপান করলে স্থানীয়রা তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের গুলবাহার গ্রামের মৃত আবুল বাসার মজুমদারের মেয়ে রুনা বেগমের সাথে প্রায় ৪ বছর পূর্বে একই উপজেলার ৪নং পূর্ব সহদেবপুর ইউনিয়নের পালাখাল গ্রামের রুস্তম আলী বাড়ির সাহাব উদ্দিনের পুত্র নূর হোসেনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে নুহাদ (২) নামে একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়।
গৃহবধূ রুনা বেগমের ভাই কবির হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমি নরসিংদীর মাধবদী থেকে এলাকায় আসি। তিনি আরো জানান, আমার বোন বিষপান করে আত্মহত্যা করতে পারে না। এখানে যে কোনো রহস্য থাকতে পারে। তাকে শ্বশুর পক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময় মারধর করত এবং রুনা বেগম তিন মাসের অন্তঃস্বত্বা ছিল বলে ভাই কবির হোসেন দাবি করেন।
রুনা বেগমের বড় বোন মাহমুদা বেগম জানান, আমার বোন মৃত্যুর পূর্বে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি পুলিশ কিংবা মিডিয়া কর্মীদের দেয়ার জন্যে তার পার্শ্ববর্তী ঘরের জা ডলি বেগমের কাছে রেখে যান। কিন্তু ডলি বেগমের কাছ থেকে মোবাইলটি কৌশলে রুনার ভাসুর ইয়াছিন নিয়ে যান। মোবাইলে থাকা সীম ও মেমোরী কার্ডটি তারা ভেঙ্গে ফেলে। ওই মোবাইলে রুনার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরো জানান, আমার বোনকে তার শ্বশুর পক্ষ নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তবে রুনার স্বামী নূর হোসেন জানান, আমার সাথে তার (রুনা) সম্পর্ক ভালো ছিল। অন্যদিকে রুনা বেগমের ভাই কবির হোসেন ও বোন মাহমুদা বেগম মোবাইল ফোনের সীম উদ্ধার করে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।
এ ব্যাপারে কচুয়া থানার এসআই মোঃ মনিরুজ্জামান মনির জানান, খবর পেয়ে আমরা রুনা বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করি। পরদিন তার লাশ স্বামী পক্ষের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে রুনা বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে অদ্যাবধি কেউ অভিযোগ করেনি। তবে রুনার ব্যবহৃত মোবাইলটি তার শ্বশুর পক্ষের লোকজন দু’দিন পর থানায় এসে জমা দিয়ে গেছে।
