স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর সদর উপজেলায় আবারো মেঘনা নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের আশঙ্কায় ১৩নং হানারচর ইউনিয়নের দঃ গোবিন্দিয়া গ্রামের দশটি বসতঘর ভেঙ্গে ফেলতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়াম্যান আলহাজ্ব আঃ ছাত্তার রাঢ়ী। তিনি বলেন, গত ক’দিন যাবৎ নদী উত্তাল থাকায় সৃষ্ট ঢেউয়ে ভাঙ্গন বেড়ে যায়। বাড়ির কাছে নদী চলে আসায় আহছান ছৈয়ালের দুটি এবং মান্নান, সলেমান, রহমান, হালিম ও জালাল ছৈয়ালের একটি করে বসতঘর ভেঙ্গে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। এছাড়া সামছুদ্দিন ও মুক্তার গাজীর ঘর সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। নদী ভেতরে ঢুকে পড়ায় স্থানীয় রাঢ়ী বাড়িসহ গোবিন্দিয়া গ্রামের শত শত পরিবার ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে। এমন পরিস্থতিতে হুমকির মুখে চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি সার্ভিসের চাঁদপুর হরিণা ফেরিঘাট।
সরজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ফেরিঘাট রক্ষায় বালুবস্তার যে বাঁধ দেয়া হয়েছে সেখানে গত দু’ বছরে সিসি বস্নকের কাজ না হওয়ায় বালুভর্তি জিও ব্যাগগুলো থেকে বালু সরে গিয়ে বস্তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অধিকাংশ বস্তার বালু গলে নষ্ট হয়েছে। সামনে বর্ষা, ওই সময় নদী আরো ভয়াবহ রূপ নিবে বলে আশঙ্কা ফেরিঘাটের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর। সামান্য বালু বস্তার উপর ভর করে টিকে আছে বিআইডাবিস্নউটিএর গুরুত্বপূর্ণ এই ফেরিঘাট। এবার বর্ষায় ঘাটের মসজিদ, মাদ্রাসা, দোকানপাট, রাস্তা, মাছঘাট, টার্মিনাল পার্কিং ইয়ার্ড, ফসলি জমি, গাছপালাসহ অসংখ্য বাড়িঘর কিছুই টিকবে না বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন এখানকার বাসিন্দা কলেজ ছাত্র নাজমুল শেখ বাবু (২২)। তিনি বলেন, তাদের বসতঘর, পাঁচটি দোকান, এলাকার মেম্বার হারুন খাঁর বাড়িসহ আশপাশের অনেক বাড়িঘর ও জমিজমা ভাঙ্গনের কাছাকাছি। নদী ভেঙ্গে ফেললে কোথায় যাবে এ দুশ্চিন্তায় আছেন। দ্রুত বস্নকের কাজ করানো গেলে ভাঙ্গন ঠেকানো যেতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, অনেক আগেই হরিণা ফেরিঘাট রক্ষায় ১৯০ কোটি টাকার ১ হাজার ৯শ’ ২২ মিটার সিসি বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করা হয়েছে। সমপ্রতি প্রকল্পের ২য় মূল্যায়ন সভা হয়েছে। এখন প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি সহসা এটি হয়ে যাবে। ভাঙ্গন পরিস্থিতি দেখার জন্যে তিনি ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
