ডাঃ এস.জামান পলাশ
হাঁপানির চিকিৎসা নিয়ে আমাদের দেশে কুসংস্কার ও ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ হাকিম, কবিরাজের কাছ থেকে পানিপড়া ও ফুঁ নিয়ে ভালো হতে চায়। অনেক কবিরাজ ও হাকিম তাদের ওষুধে উচ্চমাত্রায় স্টেরয়ডে প্রদান করে, যা শরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।
স্মৃতির ঘুম খুব ভোরে ভেঙে গেল। সারাটা বুক আঁটসাঁট হয়ে চেপে আছে, সঙ্গে কাশি, শ্বাস নিতে খুব কষ্ট। বুকের ভেতর সাঁ সাঁ করে শব্দ হচ্ছে, হা করে শ্বাস নিচ্ছে সে। জানালাটা খুলে সিলিং ফ্যানটা ফুল স্পিডে চালিয়ে ও লাভ হচ্ছে না। কয়েকবার ইনহেলার নিয়েছে। দুনিয়ার এত প্রাকৃৃতিক অঙ্েিজন তবুও অঙ্জিনের জন্য শরীর ভেঙে পড়ছে। ছোটবেলা থেকেই সে হাঁপানিতে ভুগছে। অ্যাজমা, বাংলায় হাঁপানি এটাই হলো হাঁপানি বা অ্যাজমা নামে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত একটি রোগ। যে কোনো মানুষেরই যে কোনো বয়সে এ রোগ হতে পারে। তবে হাঁপানি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। অনেক সময় হাঁপানির রোগ বংশানুক্রমে চলে। বাংলাদেশে হাঁপানির চিকিৎসা নিয়ে সম্ভবত সর্বোচ্চ কুসংস্কার ও অপচিকিৎসা রয়েছে, যা শুধু রোগের তীব্রতাই বৃদ্ধি করে না, সেই সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে মৃত্যুর মুখেও ঠেলে দেয়। তা ছাড়া হাঁপানির কারণে বহু মেয়ের বিয়ে হতে চায় না, কিংবা হলেও অনেক যৌতুকের বিনিময়ে বাবা-মা রোগগ্রস্ত কন্যাকে বিয়ে দেন ও কারও কারও বিয়ে ভেঙেও যায়।
কুসংস্কারের মধ্যে অন্যতম হলো যে, এর ডাক্তারি চিকিৎসা নেই। কেউ কেউ মধু ও ছাগলের দুধও খেয়ে থাকে। কেউ কেউ আবার হাকিম, কবিরাজের কাছ থেকে পানিপড়া ও ফুঁ নিয়ে ভালো হতে চায়। অনেক কবিরাজ ও হাকিম তাদের ওষুধে উচ্চমাত্রায় স্টেরয়েড প্রদান করে, যা শরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। হাঁপানির অন্যতম প্রধান অপচিকিৎসা হলো ক্রমাগত স্টেরয়েড বাড়তি খাওয়া, এতে যদিও দ্রুত হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে আসে; কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে ডায়াবেটিস, অস্থিক্ষয়, উচ্চ রক্তচাপ হয়। তখন কয়েক দিন স্টেরয়েড না গ্রহণ করার জন্য রোগী অজ্ঞান হতে পারে, এমনকি মৃত্যুর কোলেও ঢলে পড়তে পারে। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞানে হাঁপানির স্টেরয়েড প্রদানের সুনিদিষ্ট ধাপ রয়েছে; স্টেরয়েড প্রদানের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে, এমনকি দীর্ঘদিন স্টেরয়েড হতে কি করে স্টেরয়েড বিহীন থাকা যায় তার ব্যবস্থাও রয়েছে।
হাঁপানির কুসংস্কার কিংবা সচেতনতার অভাবের মধ্যে একটি হলো ইনহেলার ব্যবহার করা কিংবা ইনহেলার ব্যবহারে ভয় পাওয়া। বেশির ভাগ লোক ইনহেলারকে শেষ চিকিৎসা মনে করে অথচ ইনহেলার হাঁপানির সর্বোত্তম চিকিৎসা ব্যবস্থা যা অল্প/তীব্র হাঁপানির জন্য আদর্শ চিকিৎসা। বৈজ্ঞানিকভাবে এটি স্বীকৃত যে, হাঁপানি একটি ক্রনিক/ দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যার চিকিৎসা বছরজুড়েই নিতে হবে।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায়-হাঁপানি র্নিমূল করা সম্ভব তবে রোগের উৎপত্তির কারন ও লক্ষন বুঝে চিকিৎসা করলে হাঁপানি রোগ ভালো হয়ে যাবে।
লেখক পরিচিতিঃ- ডাঃ এস.জামান পলাশ
জামান হোমিও হল
মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট,চাঁদপুর
০১৭১১-৯৪৩৪৩৫
