চাঁদপুরের হামইচরে দক্ষিণ আলগীতে উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জসিম ভূঁইয়ার বাড়িতে আগুন দিয়ে ঘর বাড়ি পুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। বুধবার গভীর রাতে অগ্নিকান্ডে আধাপাকা বসতঘরের ৮টি ঘরের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে অন্ত ২০লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্থদের। গত ১৭ আগস্ট পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী গ্রামের ইব্রাহিম ভূইয়ার বাড়িতে এক ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছিল। গ্রেফতার আতঙ্কে ওই নেতার পরিবার-পরিজন সব পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাই ঘটনার সময় কেউ বাড়িতে ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শী সাহিদা বেগম ও হাফেজ মোক্তার আহম্মেদ জানায়, বুধবার ভোর ৪টায় দিকে আগুনের লেলিহান শিখায় তাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। ফায়ার সার্ভিস খবর দিলেও যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ঘটনাস্থলে আসতে পারেনি। এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে র্দীঘসময় লেগে যায়। এসময় বসত ভিটার টিনসেট ঘরের আসবাবপত্র ও মোটরসাইকেলসহ সব আগুনে পুড়ে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ঘরের মিটারের তারটিও জ্বলে গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ধারণা করছেন শত্রুতাবশত
ঘরের প্রত্যেক রুমে দাহ্যজাতীয় কোন পদার্থ ঢেলে আগুন লাগানো হয়েছে। উল্লেখ্য করা প্রয়োজন, গত সোমবার ১৭ আগস্ট মাদক উদ্ধার করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এসময় উপজেলা সদর আলগী বাজার থেকে রিপন ও তেলিরমোড় এলাকা থেকে বিল্লাল নামে দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রিপন ও বিল্লাল জানায়, তারা
৩নং আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলগী গ্রামের হাইমচর উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের জসিম ভূঁইয়ার কাছ থেকে ইয়াবা ক্রয় করেছে। এরপর হাইমচর থানার উপ-পরিদর্শক ইউনুছের নেতৃত্বে সহকারী উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ, আবুল কালাম, আনোয়ার ও সিপাহী আব্দুল হালিমসহ পুলিশ সদস্যরা জসিমকে আটকতে তার বাড়িতে রাত ১১টার দিকে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের বেশির ভাগ সদস্য ছিল সিভিল পোশাকে। তাই পুলিশ এক প্রকার জোর করে জসিমের ঘরে ঢুকতে চাইলে ঘর থেকে জসিমের স্ত্রী ডাকাত বলে চিৎকার দেয়। এসময় বাড়ির লোকজন এসে পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালালে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে থানায় চলে যায়। পরে রাত তিনটার দিকে পুলিশ সদস্যরা জসিমের বাড়িতে পুনরায় অভিযান চালায়। এসময় বাড়ি থেকে দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মাদক খোঁজ করতে গিয়ে জসিমের ঘরের সব তছনছ করা হয়। এক প্রকার সন্ত্রাসী কায়দায় এ তান্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ তাদের। এমনকি তল্লাশীর সময় বিভিন্ন মালামাল লুটপাটেরও অভিযোগ করা হয়। অথচ দীর্ঘ অভিযান শেষে জসিমের ঘর থেকে কোনো মাদক দ্রব্য কিংবা নিষিদ্ধ কোনো দ্রব্য উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ ঘরের ভেতরে যেন এক যুদ্ধবিদ্ধস্থ পরিস্থিতি তৈরি করে। পুলিশি আতঙ্কে ঘরের দরজা কিংবা সন্ধ্যা প্রদীপ দেয়ার মতো কেউ ছিল না। আর এ ঘটনাকে বর্তমানে প্রতিপক্ষ বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট বলে প্রচার করছে।
শিরোনাম:
রবিবার , ২৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাঁদপুর নিউজ সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

