
বিশেষ প্রতিনিধি
হাজীগঞ্জের টঙ্গিরপাড় হাটিলা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসির নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় ১৩৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৯জন কৃতকার্য হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অগ্রাহ্য করে অকৃতকার্য ১২৪ জনের কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ফরম পূরণ করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও অভিভাবকরা প্রতিকার পাচ্ছেন না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলার ক’জন প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্যরা ফরম পূরণ করতে পারবে না।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গণিত বিষয়ে শূন্য পেয়ে ৪৭জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। কিন্তু বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যগণ ও প্রধান শিক্ষক অকৃতকার্যদের কাছ থেকে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে নিয়ে বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে ফরম পূরণের সুযোগ দিয়েছেন।
একাধিক ভুক্তভোগী অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, যতো বিষয়ে ফেল তত বেশি ফি আদায় করা হচ্ছে। আব্দুল মান্নান নামের একজন অভিভাবক জানান, আমার মেয়ে ৫ বিষয়ে ফেল করেছে। ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সদস্য আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে চার হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছি।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ তাফাজ্জল হোসেন বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষা অন্য পরীক্ষার চেয়ে একটু কঠিনভাবে নেয়া হয়। তিনি দাবি করেন, যাদের ফরম পূরণ করা হয়েছে তারা সবাই এসএসসিতে উত্তীর্ণ হবে। ফরম পূরণে বেশি টাকা নেয়া প্রসঙ্গে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ ফরহাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় এবং অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি এলাকাবাসী আমাকে জানিয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য প্রধান শিক্ষকের অযোগ্যতা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী রেজা আশ্রাফী বলেন, আমি উপজেলার সব বিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল আমার কার্যালয়ে জমা দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছি। টঙ্গিরপাড়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি নেয়ার বিষয়টি আমার কাছে অভিযোগ আকারে আছে। আমি সহসা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো।
