প্রতিনিধি
হাজীগঞ্জে এক কিশোরীকে ২ বছর যাবৎ ট্যাবলেট খাইয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ছয়ছিলা গ্রামের কিশোরী মেয়ে (১৪) কে একই ইউনিয়নের রাধাসার পাটওয়ারী বাড়ির মৃত সুলতান পাটওয়ারীর ছেলে মজিবুর রহমান পাটওয়ারী (৪০) ২ বছর যাবৎ সেঙ্ুয়্যাল ট্যাবলেট খাইয়ে ধর্ষণ করতো। বিভিন্ন সময় মেয়েকে ধর্ষণ করার ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখতো ওই ধর্ষক। কখনো কিশোরী মেলামেশা করতে রাজি না হলে উলঙ্গ ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করতো। এভাবে ২ বছর যাবৎ তাকে সেঙ্ুয়্যাল ট্যাবলেট খাইয়ে ধর্ষণ করেছে মজিবুর রহমান।
এক পর্যায়ে কিশোরী মেয়েটি অতিষ্ঠ হয়ে ঝিয়ের কাজ করতে ঢাকায় চলে যায়। কয়েকদিন পর ঢাকার বাসার ঠিকানা নিয়ে মজিবুর ওই বাসায় গিয়ে উঠে এবং ওই বাসার লোকজনকে মেয়েটি তার বোন বলে পরিচয় দিয়ে তাকে নিয়ে লঞ্চ যোগে চাঁদপুরে আসে। এ সময় লঞ্চের কেবিনেও মজিব তাকে ধর্ষণ করে বলে জানায় ওই কিশোরী।
মেয়েটি অতিষ্ঠ হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় মজিবুর রহমান ও তার সহযোগী একই এলাকার মুসাদ্দির স্ত্রী হোসনেয়ারা প্রকাশ কালির নাম উল্লেখ পূর্বক ও অজ্ঞাত ৫/৭জনকে আসামী করে গত ৮ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করে। মামলা নং ৫। তারিখ ৮/৯/২০১৫।
কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করায় বাখরপাড়া আড়ংয়ে হাফিজ উদ্দিনের ছেলে আঃ মালেক ও তার ভাই এমরান হোসেনকে মজিবুর রহমানের মামা আঃ হান্নান, হান্নানের ২ ছেলে রহিম ও রশিদ, ভাতিজা জহির, তার শ্বশুর আঃ হক ও বোনের জামাই আঃ মান্নান, তার ভাগিনা নূর মোহাম্মদ কালু মারধর করে। এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে রামপুর তথ্যসেবা কেন্দ্রের কম্পিউটার অপারেটর মজিবুরের ভাগি্ন রহিমা আকতার সুমি আঃ মালেক ও তার ভাই এমরান হোসেনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলার হুমকি প্রদান করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিপ্লব কুমার সিংহ জানান, পর্ণোগ্রাফী আইনের আদেশ ২০১২-এর ৮ (২), দণ্ডবিধি ৩২৮ অনুযায়ী নেশাদ্রব্য পান করোনো, নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ সংশোধিত ২০০৩-এর ৯(১) ৩০ ও দণ্ডবিধি ৩২৮-এর ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম বলেন, ধর্ষিতার মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে। সহসাই মেডিকেল রিপোর্ট আমাদের হাতে এসে পেঁৗছবে। আসামীদের ধরার জন্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

