
স্টাফ রিপোর্টার:॥ চাঁদপুর জেলাধীন হাজীগঞ্জ উপজেলায় যুবদল ও পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে গতকাল শনিবার। এ ঘটনায় পুলিশ আহত হলেও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী মারাত্বক ভাবে আহত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগ নেতা মো: সবুজ বাদী হয়ে ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৫০ জনকে আসামী করে ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ৩শ”জনকে মাসামী করে, ২৪ জনের নাম উল্লেক করে একটিসহ ২টি পৃথক মামলা দায়ের করেছে শনিবার রাত সারে ১১টায়। এদের মধ্যে ৭ জন আসামী আটক রয়েছে। আটককৃতদের রবিবার চাঁদপুর আদালতে পুলিশ পাঠালে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে,চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় যুবদলের ৩৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভা পুলিশের বাধায় শনিবার পন্ড হয়ে যায়। শনিবার বিকাল থেকে রাত ৮পর্যন্ত হাজীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে যুবদল নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অংশ নিতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানার এসআই মাঈন উদ্দিন, দুই কনেস্টবল, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সূজনসহ যুবদলের প্রায় ৩০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ হাজীগঞ্জ বাজারের বিভিন্নস্থান থেকে শনিবার যুবদল ও ছাত্রদলের সাত কর্মীকে গ্রেফতার করে। আহতরা উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসায় রয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, রায়চোঁ এলাকার মিন্টু চন্দ্র দাস (২৭), জহির (৩০), বাড্ডা এলাকার হান্নান (১৭), আবু তাহের, মনতলার সাজিদ (১৮), রান্ধুনীমুড়ার ইসমাইল হোসেন (২৫), মোজাম্মেল হক জনি (১৮) ও রাজু (২০)।
শনিবার বিকাল ৫টায় উপজেলা যুবদলের সভাপতি আক্তার হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। কয়েকজনের বক্তব্যের পর পুলিশ হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় যুবদলের উপর ক্ষিপ্ত হয়। মুর্হূতের মধ্যে পুলিশ ও যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আসা নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও লাটিপেটা করে।
বিএনপি ও যুবদলের নেতা কর্মীরা রামগঞ্জ সড়কের রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে, চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের টোরাগড় বিভিন্নস্থানে ও হাজীগঞ্জ স্টেশনরোডের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে টায়ারে আগুন জালিয়ে বিক্ষোভ করে।
প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী হাজীগঞ্জ বাজারে বিভিন্নস্থানে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করতে দেখা গেছে।
যুবদলের সভাপতি আক্তার হোসেন দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন বলেন, ‘পুলিশ ও ছাত্রলীগ আমাদের শান্তপ্রিয় অনুষ্ঠান ষড়যন্ত্র করে পল্ড করেছে।’
এদিকে যুবদলের ডাকা আলোচনা সভার প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মুমিনুল হক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পুলিশের হামলা আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আমি আলোচনা সভার প্রধান অতিথি ছিলাম। কিন্তু পুলিশের বাধায় অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি।’
জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাবেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষ চলাকালে আমাদের তিন পুলিশ আহত হয়েছে। ওইসময় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মো: সবুজ বাদী হয়ে ও পুলিশের পক্ষ থেকে ২টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
