
দুই মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনায় ইলিশ শিকারে নামছে জেলেরা। জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের সময়সীমা শেষ। শুক্রবার পুরোদমে পদ্মা ও মেঘনায় জাল পড়বে জেলেদের। জেলেদের জালে ধরা দেবে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। আবারও জমজমাট হয়ে উঠবে দীর্ঘ ২ মাস ঝিমিয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুরের মাছ ঘাট।
দীর্ঘ দুই মাস অলস সময় কাটানোর পর নদীতে মাছ ধরতে নদীতে নামছে সরকারের তালিকভূক্ত প্রায় ৫২ হাজার জেলে। এ কারণে স্বস্তি ফিরে এসেছে জেলে পরিবারগুলোতে। কর্তৃপক্ষের দাবি জাটকা রক্ষার কর্মসূচি সফল হওয়ায় এবছর ইলিশের উৎপাদন বাড়বে।
জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় সরকার প্রতি বছরের অক্টোবর মাসে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন ও জাটকা ইলিশ রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মেঘনা নদীর মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত ১শ কি:মি: এলাকায় সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। যার ৬০ কিলোমিটার পড়েছে চাঁদপুর এলাকায়। আর এ কারণে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ ও উত্তর উপজেলার ৫২ হাজার ১শ ৮৯জন জেলে কর্মহীন হয়ে পড়ে।
এ সময় সরকার জেলেদের চাউলসহ নানান সহায়তা দিয়ে থাকে। সহায়তার মধ্যে থাকে ছাগল, সেলাই মেশিন ও ৪০ কেজি চাউল। এবার সরকারি সহায়তার চাল নিয়েও জেলেদের নানা অভিযোগ ছিল।
হাইমচরের কাটাখালির জেলে আমির গাজী বলেন, অনেক কষ্টে ছিলাম গত দুই মাস। সরকারি যে চাল পেয়েছি তা দিয়ে মাত্র ১০ দিন চলেছে। তারপর যে অন্য কাজ করে আয় করব সেই পরিস্থিতিও ছিল না। কারণ, করোনা আতঙ্কে অর্ধাহারে অনাহারে ঘরেই কেটেছিল। এতে পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে কষ্টের সীমা ছিল না।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী জানান, জাটকা সংরক্ষণে অন্য বছরের চেয়ে এবার কিছুটা নমনীয় ভূমিকা নিতে হয়েছে জেলা টাস্কফোর্সকে। কারণ, করোনা পরিস্থিতির কারণে মানবিক আচরণ করতে হয়েছে জেলেদের। তাই একই সঙ্গে যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে তাদের লঘুদণ্ড দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, এই সময় প্রায় ১৬.০৮৩ মেট্রিক টন জাটকা ০.২২১ মেট্রিক টন অন্যান্য মাছ এবং ২’শ ২৯৪.৩৩০ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৫৮ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা, এ ছাড়াও ৬২জন জেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলেদের জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা এবং ৭৫জন জেলের জেল দেয়া হয়েছে।
ইলিশ গবেষক চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে তাদের গবেষণার ফলে যা তথ্য উপাত্ত মিলেছে-তাতে আশা করা যাচ্ছে, বিগত বছরের চেয়ে এবার আরো বেশি পরিমাণ ইলিশ আহরণ করতে পারবে জেলেরা। ফলে গত বছরের ৫ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশের উৎপাদন ছাড়িয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ মেট্রিকটনে উন্নীত হবে।
