প্রতিনিধি
সংসারের অভার মিটাতে অল্প বয়সেই পড়া লেখার পাঠ চুকিয়ে শুরু করে জীবন সংগ্রাম। কর্মজীবনে সংসারের ঘানি টানতে বাবা আবুল হোসেন পুত্র মুনছুরের কাছে প্রায়ই ছুটে যেতেন। কিন্তু দিনের পর দিন এভাবে সংসারের চাকা টানতে ব্যর্থ হয়ে অভিমান করে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪২ বছর পর নিজ গ্রাম ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হাঁসাতে ফিরলেন মুনছুর আহাম্মদ (৫৮)। ১৯৭২ সালে ১৫/১৬ বছর বয়সে ঢাকার মোহাম্মদপুরের লেকটোজ বেকারীতে কাজ করার সময় পিতা আবুল হোসেনের সাথে অভিমান করে নিখোজ হন তিনি। স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হওয়ার পর ময়মনসিংহের এক আত্মীয়ের বাড়িতে ক�দিন তারপর পর্যায়ক্রমে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে অবশেষে কুমিল্লার শহরে এসে বসবাস শুরু করেন। এক পর্যায়ে কুমিল্লাতেই বিয়ে করার পাশপাশি কুমিল্লার আলেখার চরে একটি চক্ষু হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করেন। স্ত্রী, তার ৪ ছেলে সুমন, রুবেল, সোহেল ও তৌহিদ এবং পুত্রবধূ নিয়ে বসবাস করছিলেন। গত দু� মাস পূর্বে ওই চক্ষু হাসপাতালে হাঁসা গ্রামের এলাহির বক্স ভূঁইয়ার স্ত্রী আলফাজ বেগম তার স্বামীর চিকিৎসা নিতে গেলে মুনছুর আহাম্মদের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয় সূত্রে জানতে পারেন, তার ছোট দু� ভাই, একমাত্র বোন, চাচাসহ আত্মীয়স্বজনরা জীবিত আছে জানতে পারেন। এক পর্যায়ে আলফাজ বেগম মুনছুর আহাম্মদের মোবাইল ফোনের নাম্বার নিয়ে এসে তার পরিবারের লোকজনের কাছে দিলে পরিবারের লোকজন মুনছুরের সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হয়।
এক পর্যায়ে বাড়ির লোকজন মুনছুরের কাছে যেয়ে তাকে বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করে। অবশেষে তিনি গতকাল বুধবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি আসেন। বাড়ির আসার পর এলাকার শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমান মুনছুরকে দেখতে। কেনো এত বছর বাড়ি আসেনি এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি বাবার সাথে রাগ করে বের হওয়ার পর ময়মনসিংহ, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কেনো গিয়েছি তা নিজেও বুঝতে পারছি না। কেনো পরিবারের সাথে দীর্ঘ ৪২ বছর যোগযোগ রাখেননি তা নিজের কাছেই অজানা বলে তিনি জানান। দুই ভাই মুকবুল হোসেন গাজী, মমতাজ গাজী, ছোট বোন আসু বেগম, চাচা কলমতর গাজী জানান, ৪২ বছর পূর্বে মুনছুর ঢাকায় চাকুরিরত অবস্থায় সংসারের অভাব-অনটন ঘুচাতে না পেরে পরিবার বিশেষ করে বাবা আবুল হোসেন গাজীর সাথে অভিমান করে নিরুদ্দেশ হয়। সেই থেকে বড় ছেলে মুনছুরকে খুঁজতে দেশের নানা স্থানে গেলেও খুঁজে পায়নি তারা। এক সময় ছেলে মুনছুর জীবিত নেই বলে বাবা আবুল হোসেন পাগলপ্রায় অবস্থায় দীর্ঘদিন কাটানোর পর ৫-৬ বছর পূর্বে মারা যান। একই পথ ধরে মা ফুলবানু কিছুদিন পর মারা যান। পরিবারের লোকজন এক প্রকার ধরেই নিয়েছিল যে মুনছুর মারা গেছে। হাল ছেড়ে দেন সকলে। অবশেষে দীর্ঘ ৪২ বছর পর তাকে ফিরে পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খুশির বন্যা বয়ে যায়।

