
ক্লাব রোড লেক দখল করে দোকান নির্মাণ কাজ বন্ধ মিশন রোডে জলাশয় অবৈধ ভরাট করায় চাঁদপুর থানায় মামলা ভরাট জায়গা দখলমুক্ত করতে রেলওয়ের কাঁটা তারের বেড়া
প্রতিনিধি
চাঁদপুরে রেলওয়ের শ’ শ’ একর সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এ দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় বাদ যাচ্ছে না রেলওয়ের পুকুর, জলাশয়, ডোবা-নালা এমনকি রেল স্টেশন এলাকার জায়গাও।
একে একে রেলওয়ের জায়গাগুলো দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় চাঁদপুর শহর এলাকার পরিবেশও ভারসাম্য হারাচ্ছে। রেলওয়ের জায়গা নির্বিচারে দখল হয়ে যাওয়ায় চাঁদপুরের সচেতন মহল এবং পরিবেশ বাদীরাও ফুঁসে উঠছেন। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় অবৈধভাবে রেলওয়ের জায়গা দখল সংক্রান্ত একাধিক রিপোর্টও প্রকাশিত হয়। অতঃপর তৎপর হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম-এর ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। অবৈধ জায়গা ভরাট ও দখলমুক্ত করতে এস্টেট কর্মকর্তাগণ এখন মাঠে। গতকাল রোববার চাঁদপুরে রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের কর্মকর্তাগণ সারাদিন শহরের মিশন রোড এলাকায় জলাশয় ভরাট করা সম্পত্তিতে পিলার বসিয়ে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছেন। শহরের ক্লাব রোড এলাকার লেকটির পাড় দখল করে পাকা দোকান নির্মাণ কাজও বন্ধ করে দিয়েছেন। চট্টগ্রাম রেলওয়ের ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার এমএ বারী চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, এক একরের বেশি সম্পত্তির জলাশয় ভরাট করে যারা জায়গা দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৪৯, তারিখ ৩০/০৪/২০১৪। পরিবেশ আইনেও মামলার প্রস্তুতি চলছে। রেল সম্পত্তি দখলকারী ভূমিদস্যু ১১ জনকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, অন্যান্য জায়গা অবমুক্ত করার জন্য উচ্ছেদ নোটিস দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে রেলওয়ের জায়গা উদ্ধারে চালানো হবে উচ্ছেদ অভিযান। বিভাগীয় এস্টেট কর্মকর্তা আরো জানান, রেলওয়ের জায়গা দখলে নিয়ে কেউ যাতে সম্পত্তির ব্যবসা করতে না পারে, সাধারণ মানুষ যাতে প্রতারিত না হয় এ মর্মে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। সহসাই তা করা হবে।। এ দিকে রেলওয়ের সম্পত্তি অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ, জলাশয় ভরাট কাজে বাধা না দিয়ে দায়িত্বে অবহেলার জন্য চাঁদপুরে রেল ভূমির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রাম নারায়ণকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া লাকসাম কানুনগো হালিম ভূঁইয়া, সার্ভেয়ার আমিন, মোরশেদ আলম এবং এসএই ওয়ার্কস্ চাঁদপুর জাহান শরীফকে কারণ দর্শানোর পত্র দিয়েছে ডিভিশনাল এস্টেট বিভাগ।
চাঁদপুর রেলওয়ে বড় স্টেশন মাস্টার মোঃ হোসেন মজুমদার জানান, রেলওয়ের এস্টেট দেখার দায়িত্ব ভিন্ন শাখার। এলাকাবাসী দখল করে নিলেও রেলওয়ের দোষ। রক্ষা করতে গেলেও রেলওয়ের দোষ। অবৈধ দখলে বাধা দিলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের হাতে নাজেহাল হতে হয়। রেলওয়ের সম্পত্তি বেদখল না হলে চাঁদপুরের পরিবেশ আরো সুন্দর হতো। স্থানীয় পরিবেশবাদী সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তি ও সরকারি পর্যায়ে খালি জায়গা, পুকুর, ডোবা-নালা, জলাশয়গুলো যে হারে ভরাট হয়ে গেছে তা পরিবেশের জন্য হুমকি। রেলওয়ের জায়গাগুলোই ছিলো পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার অন্যতম সহায়ক। কিন্তু যে যেভাবে পারছে রাজনৈতিক ও স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে খালি জায়গাগুলো দখল করে ঘর-বাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণ করছে। পরিবেশের স্বার্থে এ প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া উচিত। রেল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং চাঁদপুরের প্রশাসন এ ব্যাপারে সোচ্চার না হলে চাঁদপুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হবে।
