শাহরাস্তির বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী (১০)কে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে লম্পট দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী হারুন রশিদ (২৬)কে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রীর বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে ছাত্রীর লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পর ওই লম্পট হারুনুর রশিদ এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
বিদ্যালয় ও ভিকটিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী ভুলবশতঃ শ্রেণি কক্ষে বই খাতা ফেলে বাড়িতে চলে যায়। বিকেল সাড়ে ৫টায় ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে এসে শ্রেণি কক্ষ বন্ধ দেখে বিদ্যালয়ে দায়িত্বরত বিজয়পুর গ্রামের বাঁশি বাড়ির কোরবান আলীর পুত্র দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী হারুনুর রশিদকে শ্রেণিকক্ষ থেকে তার ফেলে যাওয়া বই খাতা বের করে দেয়ার কথা বলে। নৈশপ্রহরী হারুনুর রশিদ শ্রেণি কক্ষ খুলে কৌশলে ছাত্রীকে কক্ষে ঢুকে বই নেয়ার জন্য বলে। শিশু ছাত্রীটি শ্রেণি কক্ষে ঢুকে পড়লে লম্পট হারুনুর রশিদ তাৎক্ষণিক ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়।
এক পর্যায়ে লম্পট হারুন শিশু ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়। শিশুটির ডাক চিৎকারে এক পর্যায়ে লম্পট হারুন শিশুটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। শিশুটি বাড়িতে এসে তার অভিভাবকদের বিষয়টি অবহিত করলে তারা বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবক সদস্যদের অবহিত করে। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি মোহাম্মদ আহম্মদ উল্লাহ মাস্টারের বাড়িতে বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে ১২ মার্চ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে উপস্থিত সকলকে আশস্ত করা হয়। অতঃপর ১২ মার্চ এ বিষয়ে বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৈঠক বসে। বৈঠকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিভাবক প্রতিনিধি মোঃ আহম্মদ উল্লাহ মাস্টার, কৃষ্ণ চন্দ্র দাস, মোঃ শাহজাহান, মোস্তাফিজুর রহমান, শাহ ইমরান দিপুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী লম্পট হারুনুর রশিদকে রেজুলেশন করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে চাকুরিচ্যুত করার বিষয়ে সুপারিশ করেন। তবে শিশুর যৌন নিপীড়নের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন জানান, দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী হারুনুর রশিদকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। ছাত্রীর যৌন নিপীড়নের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত হয়েছি। যা খুবই নেক্কারজনক ও দুঃখজনক ঘটনা। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রাহেলা বেগম জানান, দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী হারুনুর রশিদকে যৌন নিপীড়নের দায়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রেজুলেশনের মাধ্যমে চাকুরিচ্যুতির জন্য সুপারিশ করেছে। আমরা তাকে চাকুরিচ্যুত করার জন্য সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি।
এদিকে এলাকার এক শ্রেণির দালল চক্র হারুনের পক্ষ নিয়ে অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

