চাঁদপুর শহরের দক্ষিণ তরপুরচ-ী কাজী বাড়িতে ওয়ারিশের সস্পত্তি নিয়ে মামা ও ভাগিনার মধ্যে বিরোধের জের ধরে শহরের ওয়্যালেছ বাজার এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা ও তান্ডবের সৃস্টি হয়েছে। দুই গ্রুপের মধ্যে হামলায় ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। এই ঘটনায় পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে ও ঘটনার সাথে জড়িত রাজন গাজিকে আটক করে পুলিশ। ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করায় পুনরায় হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। এখানেই শেষ নয়, ওয়্যারলেছ এলাকায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ২০ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। গত সোমবার এবং আজ মঙ্গলবার বিকেলে দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে।
থানার মামলার বিবরণ এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে ওয়্যারলেছ এলাকার গাজী বাড়ির (ইবু গাজী বাড়ির) মৃত সামছুল হক গাজীর ছেলে সফিকুর রহমান গাজী দক্ষিণ তরপুরচ-ী এলাকার কাজী বাড়ির কাজী মাহবুবদের পৈত্রিক সম্পত্তি ওয়ারিশ দাবি করে জোরপূর্বক দখল করে খুঁটি বসায়। খবর পেয়ে কাজী মাহবুব ও তার ছেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সফিককে জিজ্ঞাসা করামাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার সাথে থাকা ১০/১২ জন সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। তারা বাবা ও ছেলেকে বেদম মারধর করে। তাদের বাঁচাতে কাজী মাহবুবের স্ত্রী এগিয়ে আসলে তাকেও সন্ত্রাসীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও হাতের স্বর্ণের রুলি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে মডেল থানার এসআই জাকিরের নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী এবং এলাকাবাসী থেকে ঘটনা জানেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে কাজী মাহবুব চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। সন্ত্রাসী সফিক গাজী ও তার ভাই সজিব গাজীসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে মামলা আসামী করা হয় ।
এ দিকে এ মামলা করায় আজ মঙ্গলবার বিকেলের দিকে ওই সফিক ও সজীব গাজীর নেতৃত্বে একই সন্ত্রাসীরা ওয়্যারলেছ এলাকায় কাজী মাহবুবের নিজ ঘরে গিয়ে তাকে খোঁজ করে। তাকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার বাড়ির গেইটে দা দিয়ে কোপায় এবং বাড়ির লোকদের গালাগাল করে।
এ ঘটনার প্রায় ২ ঘন্টা পর দক্ষিণ তরপুরচ-ী এলাকার কিছু গণ্যমান্য লোক একত্রিত হয়ে ওয়্যারলেছ এলাকায় ইবু গাজীর কাছে যান। তারা ইবু গাজীর কাছে পর পর দু’দিন সন্ত্রাসী তা-বের কারণ জানতে চাওয়ামাত্র তার সাথে থাকা সফিক, সজীব ও রাজনসহ ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী বড় বড় দা, ছেনি নিয়ে লোকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসব ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তখন হাবিবুর রহমান টিটু, শরীফ ঢালী, সুজন খান, মাসুদ গাজী, জহিরুল ইসলাম কাকন, হেলাল , নাজমুল হোসেন শুভ হামিম, জসিম গাজি, লিটন গাজি, গুরুতর জখম হন। এদেরকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে হাবিবুর রহমান টিটু ,হামিমকে ঢাকা রেফার করা হয়। আর অন্যদের চাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মডেল থানার পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে এবং রাজন নামে একজনকে আটক করে।
শিরোনাম:
রবিবার , ৩ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২০ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

