চাঁদপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার
আবুল কালাম চিশতীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আবুল কালাম মোঃ শামছুল আলম চিশতীর বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগীরা। গতকাল ২২ জানুয়ারি রোববার সকাল ১১টায় শাহতলী বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রায় ৩৫ জন ভুক্তভোগী, বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় অনেকেই অংশ নেন।
কর্মসূচি পালন শেষে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার শাহতলী ব্রিক ফিল্ডের শতকরা ২৫ ভাগ মালিকানায় অনেক আগ থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ফিল্ডের ৫০ ভাগ মালিকানা স্থানীয় শাহ আলম খান স্বপন এবং বাকি ২৫ ভাগ মালিকানা মোস্তফা খানের। আমরা গত এক বছর পূর্বে এ ব্রিকফিল্ডে মৌসুম শুরু হওয়ার আগে ইট কিনতে অগ্রিম প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আবুল কালাম মোঃ শামছুল আলম চিশতীকে দেই। তিনি আমাদের কাউকেই মৌসুম শুরুর হওয়ার পর ইট তৈরি হলেও ইট দেয়নি। তিনি উল্টো আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। যার ফলে ব্রিকফিল্ডের অন্য ২ মালিক বিপাকে পড়ে বাধ্য হয়ে ব্রিকফিল্ডটি বন্ধ করে দেয়। এটি গত এক বছর যাবৎ বন্ধ রয়েছে। এই ২ মালিক পক্ষের লোকজন আমাদের সাথে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তারা জানায়, তিনি একাই আমাদের এ পুরো অর্থ আত্মসাত করে। তার কাছে আমাদের টাকা ফেরত চাইলে তিনি আমাদেরকে অস্ত্র আইনে মামলা দেয়ার কথা বলেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেই চাঁদপুর মডেল থানায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই নিজাম ভূঁইয়া আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। আমরা তাকে বিস্তারিত জানানোর পর তিনি আবুল কালাম চিশতীর সাথে কথা বলে এ বিষয়টি মীমাংসা করার ব্যবস্থা করলেও আবুল কালাম চিশতী একাধিক তারিখ নির্ধারণ করেও নানা অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান। তারা আরো জানান, এ বিষয়ে আমরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে অবহিত করেছি। তিনি একাধিকবার মীমাংসার জন্যে উদ্যোগ নিলেও আবুল কালাম চিশতী নানা অজুহাতে এড়িয়ে যান। যে কারণে আমরা কোনো উপয়ান্তর না পেয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবো।
অত্র ব্রিকফিল্ডের অংশীদার মোস্তফা খান কালু গত ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট চাঁদপুর পুলিশ সুপার বরাবর মোঃ আবুল কালাম চিশতীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন। যার নং-৩৩৭০। এতে উল্লেখ করা হয়, উল্লেখিত ব্যক্তি আমার ভায়রা। আমরা তিন পার্টনার মিলে এম. এ. ইউ. ট্রেডমার্ক নামীয় ব্রিকস ম্যানুফেকচারিং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রতিপক্ষের অনুকূলে ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা জমা প্রদান করি। আমরা পার্টনারশীপ হিসেবে বিগত ৪/৫ বছর যাবৎ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। প্রতিপক্ষকে ব্রিকস ম্যানুফেকচারিং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রথম বছর পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি কিছুদিন পর সাধারণ সভা হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষ নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে সঠিক হিসেব না দিয়ে সে দায়িত্ব থেকে হঠাৎ অসুস্থ্যতার ভান করে ঢাকার স্থানীয় একটি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় ভর্তি হয়ে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকেন। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন কাউকে না জানিয়ে শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন লোকের কাছে গোপনে ইট বিক্রি করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার অধিক কোম্পানীর হিসাব বইতে জমা না করে আত্মসাত করে। এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক সালিস দরবারের আয়োজন করে অংশীদারিত্বের টাকা চাইতে গেলে আমাদেরকে হুমকি-ধমকি প্রদান করে এবং আমার বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা করে কোনো লাভ হবে না। কেননা ওসি, এসপি, ডিসি আমার পকেটের লোক। পরবর্তী বছর ৪০ লাখ টাকা লোকসান হলে প্রতিপক্ষ লোকসানের টাকার অংশীদার হবেন না বলে আমাদের ছাফ জানিয়ে দেন। গত ৬/৮/২০১৬ তারিখে চাঁদপুর কুমিল্লা রোডের পাশে কুমারডুগী আমার বসত বাড়ির সামনে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার কিছু ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী দিয়ে আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। ব্রিকফিল্ডের কাছে পেলে নারায়ণগঞ্জ স্টাইলে খুন করে লাশ বস্তাবন্দী করে নদীতে ফেলে দেবো, কেউ লাশ খুঁজে পাবে না। গত ১৩/৪/২০১৬ তারিখে ব্রিকফিল্ডের অফিসে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে ও ফিল্ডে যাওয়ার রাস্তায় সিমেন্টের পিলার বসিয়ে দেয় এবং পেশীশক্তি বলে জোরপূর্বক ব্রিকফিল্ড হতে কয়েক লাখ ইট তার নিজ বসতঘরের ও কবরস্থানের আশপাশে নিয়ে রাখে। বর্তমানে আমার এম.এ.ইউ. ট্রেডমার্ক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি হুমকির সম্মুখীন রয়েছে। এছাড়াও মোঃ মোস্তফা খান কালু চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরও আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে আবুল কালাম মোঃ শামছুল আলম চিশতীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের ব্যানারে যারা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তারা আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যেই এমনটি করেছে। তাদের এসব অভিযোগ মিথ্যে। আমাদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যে অপবাদ দেয়ার জন্যে তাদেরকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি।
