প্রতিনিধি
চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যান্দী গ্রামে নিষ্ঠুর স্বামীর নির্মম শারীরিক নির্যাতনে জান্নাতুল ফেরদৌস (২৬) নামের এক অসহায় নারী গুরুতর আহত হয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ২৪ মার্চ শুক্রবার সকালে ওই গ্রামের প্রধানীয়া বাড়িতে।
আহত জান্নাতুল ফেরদৌস হাসপাতালের বেডে কান্নজড়িত কন্ঠে জানান, প্রায় ৬ বছর পূর্বে কল্যান্দী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মনির হোসেন প্রধানীয়ার সাথে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ জান্নাতের পিতা মনিরকে নগদ প্রায় ১ লাখ টাকা ও ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার দেন। এরপর মনির বিদেশ যাওয়ার নাম করে তার পিতার কাছে আরো ৬০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু সে বিদেশ না গিয়ে ওই টাকা দিয়ে তার ভাইকে বিদেশে পাঠান। এর মাঝে স্ত্রীর সন্তান প্রসবের সময়ও মনির স্ত্রীকে তার বাপের কাছে পাঠিয়ে দিলে শ্বশুর হাসপাতালের সমস্ত খরচ বহন করেন।
পরবর্তীতে মনির ব্যবসার জন্য স্ত্রীর বাপের বাড়ি থেকে আরো টাকা এনে দেয়ার কথা বলে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার পিতা সামর্থ্য অনুযায়ী মনিরকে আরো ৫০/৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বিয়ের কয়েক বছর পরে তিনি মারা যান।
জান্নাত আরো জানান, ঘটনার প্রায় ২০/ ২৫ দিন আগেও মনির তার চাচার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার এনে দেয়ার কথা বলে। সেই টাকা ১৫ দিন পরে ফেরৎ দিবে বলে কথা দেয়। তার কথামতো জান্নাত তার চাচার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দেন। ১৫ দিন পার করে ২০/২৫ দিন পর অর্থাৎ ঘটনার দিন সকালে তার কাছে চাচার পাওনা টাকা চাইলে মনির প্রধানীয়া তার সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। স্বামী তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম হয়ে গুরুতর আহত হয়ে পড়লে জান্নাত কোনো রকম তার বাপের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিলে ওই বাড়ির লোকজন হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়। বর্তমানে জান্নাত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, তার শিশু সন্তানকে নিয়ে আসার সময় মনির জোর করে রেখে দেয়।
এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে জান্নাতুল ফেরদৌস তার স্বামী মনির প্রধানীয়ার বিরুদ্ধে চাঁদপুর পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশের এস আই আহসানুজ্জামান লাবু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কল্যান্দীতে তার শশুর বাড়ি থেকে শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে জান্নাতের কাছে ফিরিয়ে দেন।
