
রফিকুর ইসলাম বাবু ॥
চাঁদপুর শহরের ট্রাক রোড এলকায় একটি বহুতল ভবনে বসবাসকারী একটি পরিবারের মধ্যেই জ্বীনের কান্ড বিরাজ করছে। ওই পরিবারের লোকজন ইতিমধ্যে বিভিন্ন দরবার শরিফের হুজুর ও কবিরাজ এনে ঝাড়ফুঁকের কাজ করেছে। এ পরিবারটি এখনো জ্বীনের কান্ড এই বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার চেষ্ট করছে। চাঁদপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি ২এর ডিজিএম মনিরুল ইসলাম দীর্ঘ দুই বছর ধরে চাঁদপুুরে চাকুরি করার সুবাদে শহরের মিশন রোড রেলক্রসিং সংলগ্ন ট্রাগ রোডের প্রবাসী মোঃ শাহজালাল মোল্লার মালিকানাধীন রোজ গার্ডেন ৬ তলা ভবনের ৪র্থ তলার ৪-৪ ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন। এ ফ্লাটে থাকাবস্থা পরিবারটি আচমকা ঘরের জিনিসপত্র অদৃশ্যভাবে মেঝে ছুড়ে পরতে থাকে এই থেকেই তাদের মধ্যে জ্বীনের আতঙ্ক বিরাজ করে।
গত ৫-৬ দিন পূর্বে মনিরুল ইসলাম ৪র্থ তলার এ ফ্লাটটি ছেড়ে দিয়ে ৫ম তলার ৫-২ নং ফ্লাটে চলে যায়। গত ১৫ আগস্ট মনিরুল ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাতাদাত বার্ষিকীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাসায় গেলে তিনি দেখতে পান কোন মানুষজন ছাড়াই জিনিসপত্র এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ছুড়ে মারা হচ্ছে। একই ভাবে এ পরিবারের লোকজন ডাইনিং টেবিলে বসে গল্প করতে থাকলে অদৃশ্য ছায়া একটি কক্ষের মেঝেতে কলম দিয়ে আঁকা ঝোঁকা করে রেখে যায়। এই থেকে জ্বীনের আতঙ্কটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বর্তমানে আমরা এ বাসাটি ছেড়ে দিচ্ছি। তাছাড়া ঢাকার গাজীপুরে আমার বাড়ি থাকার কারণে পরিবারকে সেখানে পাঠিয়ে দিব। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মনিরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, গত ১৫ আগস্ট থেকে তাদের ঘরে অদৃশ্য ছায়া জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলছে। বিভিন্ন লোকের পরামর্শক্রমে গত ১৭ আগস্ট শুক্রবার গজারিয়া উজানি হুজুর মাওঃ মোঃ মাকসুদকে ওই বাসায় এনে দোয়া দুরুদ পড়ানো হয়। সেই থেকে গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত জ¦ীনের উপদ্রব বন্ধ ছিল। শাহজালাল মোল্লার বাড়ির কেয়ার টেকার মোঃ আবু তাহের জানান, এ পরিবারটিতে জ্বীনের আছড় বিরাজ করার বিষয়টি বাড়ির মালিককে বিদেশে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন প্রথমে বিষয়টি আমরা বিশ্বাস করতামনা। একদিন সন্ধ্যায় মনিরুল ইসলামের ঘরে গিয়ে দেখতে পাই উপর থেকে এক টাকা দু’টাকার সোনালি ও রূপালী রঙের কয়েন পড়ছে। আবার মুহুর্তের মধ্যেই ঘরের জিনিসপত্র ছুড়ে মারা হচ্ছে। শাহজালাল মোল্লার রোজ গার্ডেনট বাসাটি ৬তলা বিশিষ্ট। এ বাসায় নিচ থেকে উপর পর্যন্ত ২৩টি পরিবার বসবাস করছে। বর্তমানে সকল পরিবারের এ অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া শাওনের আম্মু জানান, তাদের বিপরীত ফ্লাটে (৪-৪) থাকাবস্থায় এখানেও জ¦ীনের আতঙ্ক দেখা দেয়। যার জন্য তারা এ ফ্লাট ছেড়ে দিয়ে ৫ম তলায় চলে যায়।
