
শওকত আলী ঃ
চাঁদপুর পৌরসভায় চাকুরী দেওয়া ও চট্টগ্রাম কাষ্টমস্ কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান এর স্বাক্ষর জাল করে চট্টগ্রাম কাষ্টমস্ হাউজে চাকুরী দেওয়ার ভুয়া নিয়োগপত্র বানিয়ে প্রতারনা করে সাহাবুদ্দিন নামে এক যুবকের কাছ থেকে ১৩ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা প্রতারনা ও বিভিন্ন যুবককে চাকরী দেওয়ার নামে অর্ধ কোটি টাকা প্রতারনার করে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ চাঁদপুর পৌরসভার সহকারি হিসাব রক্ষক মঞ্জুর হাসান (২৮) কে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গতকাল সোমবার রাত ৮ টায় শহরের তালতলা করিম পাটওয়ারী সড়কে। এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) রাশেদুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্সসহ প্রতারক মঞ্জুর হাসানকে আটক করেছে। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ অলিউল্যাহ অলি। প্রতারক মঞ্জুর হাসান ১১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা ও ভুয়া চাকুরী নিয়োগের কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় প্রতারনার শিকার সাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ প্রতারক মঞ্জুর হাসানকে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে প্রেরন করলে আদালত তাকে জামিননা মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরক করেছে।
মামলার বিবরণ ও প্রতারনার শিকার শাহাবুদ্দিন জানান, চাঁদপুর পৌরসভার সহকারি হিসাব রক্ষক ও ফরিদগঞ্জ পশ্চিম লাড়ুয়া গ্রামের সৈয়দ আহমেদের ছেলে মোঃ মঞ্জুরুল হাসান বিগত ২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও মঞ্জুর হাসানের মাধ্যমে জানতে পেরে পৌরসভার কার্যালয়ে সহকারি আয়কর পদে আবেদন করেন। সে চাকুরীর নাম করে মঞ্জুর হাসান ৪ লক্ষ টাকা নেয় এবং বিভিন্ন যুবকের কাছ থেকে প্রতারক মঞ্জুর হাসান চাকুরী দেওয়ার কথা বলে হাইমচর আলগী এলাকার ইমাম হোসেন নামে এক যুবকের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, একই এলাকার রিয়াদ হোসেনের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ও রায়পুরের সোহেল নামে আরেক জনের কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা সহ আরো একাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে সাহাবউদ্দিনকে পৌরসভায় চাকুরী না হওয়ায় চট্টগ্রাম কাষ্টমস্ হাউজে উচ্চমান সহকারি পদে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ৭ লক্ষ ৭ হাজার টাকা নেয়। বিগত ১ বছরে পৌরসভার হিসাব রক্ষক মঞ্জুর হাসান চাঁদপুর পৌরসভায় চাকুরী ও কাষ্টমস্ এ চাকুরীর কথা বলে সাহাবউদ্দিন থেকে ১৩ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা প্রতারনা করে হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে গত ৬ জুলাই চট্টগ্রাম কাষ্টমস্ হাউজে কাষ্টমস্ এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমানের স্বাক্ষর জাল, রাস্টীয় খাম ব্যবহার করে চট্টগ্রাম কাষ্টমস্ হাউজের উচ্চমান সহকারি পদে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে চট্টগ্রাম কাষ্টমস্ হাউজে যোগদান করার জন্য চিঠি ধরিয়ে দেন। ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন চট্টগ্রাম কাষ্টমস্ এর প্রশাসনির কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্র নিয়ে চাকুরীতে যোগদান করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। এর পর শাহাবুদ্দিন সেখান থেকে সু-কৌশলে রক্ষা পেয়ে চাঁদপুর এসে মঞ্জুর হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে সে চাঁদপুর পৌরসভায় চাকুরী দেওয়ার কথা বলে পুনরায় পৌর মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে আরো ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রতারনা করে গ্রহণ করেন। দীর্ঘ দিনেও চাকুরী না হওয়ায় এবং বিভিন্নভাবে তাল বাহানা ও প্রতারনা করে। ভুক্তভোগী শিহাব জানায়, আমার টাকার বিষয়ে এলাকায় একাধিক শালিশ বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের ফলেই বেরিয়ে আসে তার আরও টাকা আত্মসাতের ঘটনা। শালিশ বৈঠকে ২০/০৭/২০১৭ইং তারিখে আমার টাকা দিবে বলে একটি অঙ্গিকার নামা প্রদান করেন। আমি সেই প্রেক্ষিতে তার কাছে টাকা চাইলে সে পূণরায় আমার কাছ থেকে সময় নেয় এবং গতকাল সোমবার ২১ আগষ্ট চাঁদপুর শহরের তালতলায় আসতে বলে। আমি তালতলা এসে মঞ্জুর হাসানের কাছে টাকা চাইলে সে এবং তার লোকজন মারধর করতে আসে ও টাকার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমাকে প্রানে মেরে ফেলবে বলে জানায়। বিষয়টি আমি আশপাশের লোকজনকে জানালে তারা তাকে আটক করে পুলিশ সুপারকে জানান। পুলিশ সুপারের নির্দেশে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক রাশেদুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাকে শহরের তালতলা করিম পাটওয়ারী সড়ক থেকে আটক করে মডেল থানায় নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে চাঁদপুর পৌরসভার সহকারি হিসাব রক্ষক মঞ্জুর হাসান জানান, সে প্রতারনা করে শাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে ১১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা নিয়েছে। কাষ্টমস্ চাকুরীর ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাষ্টমস্ অফিসের আনোয়ার হোসেন তাকে শাহাবুদ্দিনের নামে নিয়োগপত্র দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমি শাহাবুদ্দিনকে চট্টগ্রামে কাষ্টমস্ যোগদান করার জন্য পাঠিয়ে ছিলাম। মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ অলিউল্যাহ অলি জানান, প্রতারনা করে ১১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলা তদন্ত পূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
