চাঁদপুরের মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে ২৩ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে ৭ জনকে শুক্রবার সন্ধ্যায় কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম ও মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার এই সাজা প্রদান করেন।
শনিবার সকালে হাইমচরে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী বেগম। তিনি ৬ জেলেকে ১ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে মতলব উত্তর উপজেলায় আটক হয় ১০ জেলে, যাদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার। তাদের কাছ থেকে ৩টি নৌকা ও ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, শুক্রবার গভীর রাতে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর ষাটনল ও মোহনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০জেলেকে আটক করা হয়। কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো : শাকিল (২২), মোঃ শিপন (১৯), আঃ রহিম (৪০), মোঃ সাগর হোসেন (২৪), মীর হোসেন (১৮), মোঃ নাছির উদ্দিন (২২), মোঃ বাবু (২০), নজরুল ইসলাম (২৮), মোঃ মাসুদ (৩০) ও মোঃ দুলাল (২৫)।
হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ঈশানবালা এলাকায় শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মেঘনা নদীতে মা ইলিশ আহরণ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৬ জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় টাস্কফোর্স ১৫০ কেজি মা ইলিশ ও ২টি মাছ ধরা নৌকা জব্দ করে।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসি বেগম আটক ৬ জেলেকে ১ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলো : হাইমচর উপজেলার মজিবর রাঢ়ী (৪৫) ও মোঃ সাইফুল ইসলাম (২০), সদর উপজেলার আক্কাছ আলী খান (৪২), মোঃ সুমন খান (৩৫), মোঃ আরিফ (২০) ও মোঃ রিপন গাজী(১৮)।
ইউএনও শারমিন আক্তার বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ইলিশ আহরণ, বেচাকেনা, পরিবহন ও মজুুদ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আমরা দিনরাত নদীতে অভিযান পরিচালনা করছি। জাতীয় সম্পদ যারা বিনষ্ট করবে তারা দেশের শত্রু। তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। প্রতিদিন আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুল বাকী জানান, দুই উপজেলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেদের শনিবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অভয়াশ্রম এলাকায় জেলা উপজেলা টাস্কফোসের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অপরদিকে মতলব উত্তর ও হাইমচরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকার করায় ৭ জেলেকে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে সুমন মোল্লা (১৭) নামে কিশোরকে বয়স কম হওয়ায় ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হচ্ছেন : হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকার কাসেম পাটওয়ারী, কাসেম মোল্লা ও মতলব উত্তরে আটক মুন্সিগঞ্জ জেলার সাইদ হোসেন, মেহেদী হাসান, মোঃ ইউসুফ মোল্লা, নবী হোসেন ও হযরত আলী।
