অসচেতন মানুষদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে প্রশাসন। তারা কোনো নির্দেশনা
মানতে চাচ্ছেন না। করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসচেতন
মানুষগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। বিদেশ ফেরত
মানুষগুলোর মধ্যে যারা নিয়ম মানছে না, তাদেরকে এখন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
জরিমানার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদেরকে। এমনকি বিবাহের মতো মানুষের জীবনের
উল্লেখযোগ্য একটি আনন্দময় মুহূর্তেও আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রবাসী
বরকে। জরিমানা তো গুণতে হচ্ছেই, এমনকি তাকে বাসর করার সুযোগ না দিয়েই হোম
কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। একটি পরিবার ও সমাজকে রক্ষার জন্যে
এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও ছিল না প্রশাসনের। এমনই একটি
ঘটনা ঘটেছে গতকাল শুক্রবার চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়নের
৪নং ওয়ার্ডে।
জানা গেছে, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড এলাকার
মৃত মনির হোসেনের ওমান প্রবাসী ছেলে মিলন হোসেন গতকাল শুক্রবার বিয়ের আসরে
বসেন। অথচ তিনি ওমান থেকে দেশে আসেন গত ১১ মার্চ। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের
কারণে তাকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা ছিলো। কিন্তু মনির এ নিয়ম
মানেন নি। এমনকি তার পরিবারও এ বিষয়ে উদাসীন ছিলো। ১৪ দিনের হোম
কোয়ারেন্টাইনে না থেকে মনির আইনত দ-নীয় অপরাধ তো করেছেই, উপরন্তু বিয়ের
আয়োজনে লোক সমাগম করেও সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে অপরাধ করেছে। এমন
ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা গতকাল
শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় ঘটনাস্থলে যান। তখন বিয়ে শাদী সব হয়ে গেছে। এ
সময় ইউএনও কানিজ ফাতেমা ওমান ফেরত মনির হোসেনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকার
বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করেন। এরপর তিনি
মনিরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার
বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মনির যাতে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকে সেটি
নিশ্চিত করার জন্যে ইউএনও গ্রাম পুলিশকে দায়িত্ব দিয়ে আসেন। ইউএনও কানিজ
ফাতেমার সাথে কথা বলে এ সব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
