
করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে সব মানুষ এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার
মধ্যে রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত সব শ্রেণির
শিক্ষার্থীই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। কারণ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সব ধরনের
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অনলাইনে ও সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর ক্লাস চলছে। কিছু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ও
অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। তবুও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা
সেভাবে এগিয়ে যেতে পারছে না। তারা কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই পরিস্থিতি
স্বাভাবিক হলে করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সব
ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
(১) গণপরিবহন চালুর তিন সপ্তাহের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা
হবে। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নোটিস দিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে এইচএসসি ও
সমমান পরীক্ষা শুরু করা হবে।
(২) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় আরও দীর্ঘ হলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর পর ফল প্রকাশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে করা হবে।
(৩) ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন থেকে যেনো বড় সময় নষ্ট হয়ে না যায়, বড়
ধরনের সেশনজটের সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।
(৪) লকডাউনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সঙ্কটকালেও লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার
উদ্যোগটি হাতে নিয়েছি। বর্তমানে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে
পাঠদান করছে। টেলিভিশন ও অনলাইনে পাঠদানের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা
যেনো পড়াশোনা থেকে দূরে সরে না যায়, তাদের পড়াশোনার মধ্যে ধরে রাখা। এ ছাড়া
করোনার সংক্রমণের সময়টা দীর্ঘ হলেও যেনো ছাত্র-ছাত্রীরা খুব বেশি পিছিয়ে
না পড়ে।
(৫) পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুললে আমরা বুঝতে
পারবো, একাডেমিক দিক থেকে কতটা পিছিয়ে গেছে শিক্ষার্থীরা। সেটা কাটিয়ে উঠতে
অতিরিক্ত ক্লাসের প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া
অন্য ছুটিগুলোও কিছুটা কমিয়ে এনে পাঠদানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
(৬) ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে যেসব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
নেয়া দরকার তার সব সাধ্যমতো নেয়া হবে। কারণ, এটিই আমাদের দায়িত্ব, এটিই
কর্তব্য। করোনা পরিস্থিতিতেও আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্স করে সব
খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা
নিয়মিত আমাদের সার্বিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি চান, এই শিক্ষার্থীরা
হবে বিশ্বমানব, তারা বিশ্বমানের শিক্ষা পাবে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা, স্বপ্ন
পূরণ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
