
সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণ রোধে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন এইচআরপিবি’র দায়ের করা এক রিট পিটিশনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয় যে, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে খর্ব করছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশে পর্যাপ্ত গাছ নেই, তাই বিদ্যমান গাছগুলোকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, যত্রতত্র গাছ কাটার ফলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, যা জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষার অন্তরায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আদালত ঢাকা শহরসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটার অনুমতি প্রদানের জন্য সাত সদস্যের পৃথক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সাত দিনের মধ্যে সার্কুলার ইস্যু করে এই কমিটিগুলো গঠন করতে হবে। ঢাকা শহরের জন্য গঠিত কমিটিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকদের অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কমিটিতে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি এবং সিভিল সার্জন থাকবেন। একইভাবে উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটার অনুমতির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা ও এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হবে। এখন থেকে যেকোনো গাছ কাটতে হলে এই কমিটিগুলোর নিকট থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অনুমতি নিতে হবে।
রায়ের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০০৪ সংশোধন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদালত আদেশ দিয়েছেন যে, এই বিধিমালার আওতায় রোপণকৃত গাছগুলো আর কাটা যাবে না; বরং ওই গাছের সমপরিমাণ মূল্য রোপণকারী ব্যক্তিকে প্রদান করতে হবে।
আদালতে এইচআরপিবি’র পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ, তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডিএজি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। বিবাদী হিসেবে মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবসহ মোট ১৫ জন এই প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকবেন।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক রায়ে সরকারি প্রজেক্টের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না বলে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে এইচআরপিবি’র পক্ষ থেকে একটি রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়। রিভিউর শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের আদালত উক্ত রিভিউ আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং রায়ের কার্যকারিতা চলমান রাখেন।
