ফাহিম শাহরিন কৌশিক খান
চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার জরাজীর্ণ পোস্ট অফিসটি তার পুরানো ঐতিহ্য বিলুপ্ত হওয়ায় কোন রকম খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে তার কার্যক্রম। সরজমিন গিয়ে জানাযায়, একসময় পুরাণ বাজার পোষ্ট অফিসটি ছিল পুরাণ বাজার, হাইমচর, শরিয়তপুরসহ চরাঞ্চলের মানুষদের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। কালের পরিক্রমায় আধুনিক প্রযুক্তির কারণে সারা দেশের ন্যায় এ পোস্ট অফিসটি তার কার্যক্রমের চাপ অনেকটাই কমিয়ে ফেলেছে। পুরাণ বাজারের এই শাখায় কাজ করছে প্রায় ৬ জন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী। এদের মধ্যে গত কয়েক বছর পূর্বে যোগদান করা পোষ্ট মাস্টার শাহ্ এমরান জানান, সরকার তাদেরকে প্রতিমাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা বেতন দিচ্ছেন। এছাড়াও পোষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, একসময় এখানে মানুষের দীর্ঘ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে কার্যক্রম করতে হতো। এখন আর সেই বিষয়টি নেই। এখন সুবিশাল সরকারি ভবনের ভিতরে পোষ্ট মাস্টার শাহ্ এমরানের টেবিলের সামনেই যেকোন কাজ সহজে চাপমুক্ত ভাবে করে ফেলা যায়। অত্র পোস্ট অফিসে রয়েছে রানার জাহাঙ্গীর, পিয়ন লোকমান, আক্কাস কর্তব্যরত কাজে রয়েছেন। তাদের উপর পূর্বের চাইতে সারা দিনে তেমন কোন কাজের চাপ পরে না বললেই চলে। এছাড়াও সূত্র মতে জানাযায়, প্রায় ৭০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ পোস্ট অফিসটি পুরানবাজার বাসীর কাছে এখন প্রায় ভূতের আস্তানা বলেই বিবেচিত। ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় গ্লাস করা পুরানো কাউন্টারগুলো যেন অতীতের ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়াও ভবনের উপরের ছাদ খসে পড়ছে নিত্য দিন। এ ভবন সংস্কারের জন্য ৬ লাখ টাকা সরকার কর্তৃক বরাদ্দ হলেও তা আজও সংস্কার হচ্ছে না। ব্যবসায়ী অনেকে জানান, সরকার সারা দেশের ন্যায় পুরাণবাজার পোস্ট অফিসের পেছনে যে পরিমান মাসিক অর্থ বেতন বাবদ বরাদ্দ দিচ্ছে সেই পরিমান রাজস্ব আয় থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাংকিং ও দ্রুত তাৎক্ষনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাহলে আবারও জমে উঠবে পুরাণ বাজারের এই পোস্ট অফিসটি।
শিরোনাম:
বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
