
রফিকুল ইসলাম বাবু
চাঁদপুর সদর উপজেলার সেনগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে কমিটির অন্যান্য সদস্যদের অনাস্থা প্রদানের তদন্ত করার জন্য বিদ্যালয়ে গিয়েছেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। শনিবার সকাল ১১ টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে এ তদন্ত প্রতিবেদন কাজের সময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বোরহান ফেরদৌসি ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজীজ সহ কমিটির অন্যান্য সদস্য, শিক্ষক মন্ডলী ও স্থানীয় এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। জানাযায়,১৯৭২ সালে চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নে সেনগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন মরহুম অধ্যক্ষ ছিদ্দিকুর রহমান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুষ্ঠ তদারকির অভাবে বিদ্যালয় অবকাঠামোর তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। প্রতিষ্ঠাকালে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন শান্তি রঞ্জন। গত ২০১৩ সালে তিনি অবসর গ্রহন করলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজীজ। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ছিলো ৪০ থেকে ৫০ জন। এছাড়া বিদ্যালয় শ্রেনীকক্ষ ছিলো জরাজির্ণ। দায়িত্ব গ্রহন করে তিনি বিদ্যালয়টিকে নি¤œন মাধ্যতিক পর্যায় থেকে কমিটির লোকদেও সহযোগীতায় উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নিত করেন। ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ শতাধিক। ডোবানালা জমি ভরাট হয়ে বিদ্যালয়ের নতুন টিনসেড ঘর নির্মান হয়। বিগত এস এসসি পরীক্ষায় ফলাফল সন্তোষজনক হয়েছে। এদিকে ২০১৬ সালে কমিটিতে পিতার উত্তরসূরি হিসেবে বোরহান ফেরদৌসি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে নানা মতের অমিল চলতে থাকে। সভাপতি বোরহান ফেরদৌসি কর্তৃক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লঞ্চিত করা, বিদ্যালয় থেকে টাকা চাওয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে। এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে কমিটির সকল সদস্যরা সভাপতি বোরহান ফেরদৌসির বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করে। এ অনাস্থা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শো-কজ করে কমিটির সভাপতি বোরহান ফেরদৌসি। অবশেষে অনাস্থাও শোকজের বিষয়াবলী নিয়ে গতকাল তদন্ত করার জন্য বিদ্যালয়ে গিয়েছেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।এ বিষয়ে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন তদন্ত কাজ চলছে। আরো কাজ বাকি আছে। তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে সদর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত ছাত্রীরা বলেন কমিটির সভাপতি তাদের প্রধান শিক্ষককে বেশ কয়েকবার লঞ্চিত করেছেন। যা তারা কামনা করেনা। বাড়ান্দায় দাড়ানো কয়েকজন অভিভাবক জানান, এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসার পর বিদ্যালয়ের যে উন্নয়ন হয়েছে তা বলে শেষ করা যাবেনা। আমরা চাই এভাবে ধারাবাহিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকুক। এলাকাবাসির প্রত্যাশা হলো বিদ্যালয়ের কমিটির দায়িত্বে যেই থাকুকনা কেন বিদ্যালয়ের ভাবর্মর্তি ও শিক্ষার্থীদের যেন কোন ক্রমেই ক্ষতি না হয়।
