
শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
বাড়ির মালিককের হেয়ালীপনা ও অসাবধানতার কারনে চাঁদপুর শহরের পুরান আদালত পাড়ায় স্বপ্নময় ভিলা নামে আরেকটি রানা প্লাজার উত্থান ঘটেছে। যে কোনো মুহর্তে হেলে পড়তে পারে অথবা ধেবে যেতে পারে এ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি। ৫ তলা একটি ঝুঁকিপূর্ন ভবনে বসবাস করছে ১০ টি পরিবারের লোকজন। এ কারনে আতংকে রয়েছে স্থানীয় লোকজন ও পাশ্ববর্তী ভবনের মালিকগন।
জানাযায় চাঁদপুর শহরের ১০ নং ওয়ার্ডস্থ পুরান আদালত পাড়ার আঃ রশিদ মৃধা, মমতাজ বেগম, জিয়াউল নবী ও নাজমুন্নাহরের অসাবধানতা ও হেয়ালীপনায় ( হোল্ডিং নং ০১৩৫) স্বপ্নময় নামের ৫ তলা বিশিষ্ট ভবনটি দীর্ঘদিন যাবৎ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। নির্মানের সময় ভবনটির নিচে ঠিকমতো বরিং না করায় বর্তমানে তার নিচে কোন মাটি নেই। বৃষ্টি এবং রির্জাব টাংকির পানি পড়ে ভবনের নিচের সব মাটি সরে গিয়ে সেটি এখন মাটি বিহিন দাঁড়িয়ে আছে। তার নিচে কোন মাটি না থাকায় যে ভয়াবহ গর্ত ও খোলসা সৃষ্টি হয়েছে এতে অনেকে মনে করছেন যে কোন মুর্হতে ওই ঝুঁকিপূর্ন ভবনটি ধেবে যেতে পারে অথবা সেটি হেলে পড়ে ঢাকার রানা প্লাজার মতো বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়রা জানায়, ওই ভবনটির নিচ তলায় সাপ্লাই পানির যে রির্জাব টাংকি রয়েছে সেটির অতিরিক্তি পানি ডেলিবারি হওয়ার জন্য একটি বড় ছিদ্র করে রাখেন বাড়ির মালিকগন। আর সে ছিদ্রটি বন্ধ না করায় অনাবরত পানি পড়ে তার পাশের রাস্তা এবং ভবনের নিচের মাটি সরে গিয়ে খোলসা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সকালে পৌরসভার লোকজন পানির লাইনের কাজ করতে গিয়ে ওই ভবনের নিচের মাটি সরে গিয়ে খোলসা সৃষ্টি হতে দেখেন। শ্রমিকরা জানান এটি ভবন মালিকদের ভুলের খেসারত। তারা জানান, প্রথমে বাড়ির মালিক কর্তৃপক্ষ ১ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে সাপ্লাইর পানির সংযোগ টানেন। কিছুদিন পর ওই সংযোগের পাইপটি ভেঙ্গে যাওয়ায় তারা টাংকির অন্যস্থান দিয়ে নতুন আরেকটি সংযোগ দেন। পূর্বের সংযোগের জায়গাটির ছিদ্রটি এবং অতিরিক্ত পানি পড়ার ছিদ্রটি বন্ধ না করার কারনে অনাবরত পানি পড়ার কারনে ভবনের নিচের মাটি সরে গিয়ে এমন খোলসা সৃষ্টি হয়েছে।
চাঁদপুর পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ডি এম শাহজাহান জানান, আমি এ রাস্তা দিয়ে প্রায়ই আসা যাওয়া করতে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে গর্ত সৃষ্টি হতে দেখি। কিন্তু কোন পানি জমে থাকতে দেখা যায়না। তারপর গর্তের ওইস্থানে বিভিন্ন সময় মাটি ফেলি। এভাবে প্রায় সময় গর্ত হতে দেখে বিভিন্ন সময় মাটি ফেলতে ফেলতে প্রায় ৮/৯ গাড়ি মাটি ফেলা হয়। কিন্তু এ মাটি গুলো কোথায় যায় তা বুঝতে পারছিনা। রোববার সকালে পৌরসভার লোকজন পানির লাইনের কাজ করতে গিয়ে দেখেন টাংকি থেকে পানি পরে রাস্তা এবং বিল্ডিংয়ের নিচে খোলসা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন এক সময় এখানে পুকুর ছিলো ,ওই পুকুর ভরাট করে বিল্ডিং নির্মান করা হয়েছে। হয়তোবা তখন ঠিকমতো মাটি না বসার কারনে পানির সাথে মাটি মিশে সেগুলো জায়গামতো বসছে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হাসানাত মোঃ শামসুদ্দোহার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন বিল্ডিংয়ের নিচের মাটি সরে গেলে অবশ্বই তা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে তা টিকে থাকার নির্ভরতা করে গভীরতার ওপর। এ ভবনটি নির্মানের সময় যদি মাটির কম গভীরতা থেকে ফাউন্ডেশন নিয়ে থাকে তাহলে যে কোনো মুহর্তে এটি দেবে যেতে পারে অথবা হেলে পড়তে পারে। আর যদি সেটি অনেক গভীরতা থেকে ফাউন্ডেশন নিয়ে থাকেন তাহলে হয়তো নিচের অংশে মাটি ভরাট করলে কোন সমস্যা হবেনা।
এ বিষয়ে মালিক কর্তপক্ষের আঃ রশিদ মৃধার স্ত্রী মমতাজ বেগমের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি তা মেরামত করে ফেলবেন বলে কথা এরিয়ে গিয়ে কেটে পড়েন।
