
রফিকুল ইসলাম বাবু ঃ
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা বাখরপুর গ্রামে ৪ সন্তানের জননীকে (৩৬) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১০ জুন শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১০টায় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডস্থ সর্দার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এলাকাবসী অভিযুক্ত সেলিম খান (২৫) কে হাতে হাতে আটক করলেও তাৎক্ষনাত সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ নিয়ে ওই এলাকাজুড়ে দুটি পক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কুহিনুর বেগম জানায়, শনিবার রাতে তিনি তারাবির নামাজ শেষে ঘরের বাইরে যান। এসময় রাতের অন্ধকারে তিনি পাশ্ববর্তি দুলাল খানের পুত্র সেলিমকে একই বাড়ির মৃত হামিদের স্ত্রী’র ঘরে প্রবেশ করতে দেখেন। পরে বিষয়টি প্রতিবেশী সাজেদা বেগম, মরিয়ম বেগম ও অভিযুক্ত সেলিমের মামা আলমগীরকে জানান। এক পর্যায়ে সবাই মিলে মৃত হামিদের ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা সেলিমকে দেখতে পায়। তাৎক্ষনাত সেলিম তাদের ধাক্কা মেরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ বিষয়ে মৃত হামিদের স্ত্রী জানায়, গত ১ বছর পূর্বে তার স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পরে ২ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে তিনি স্বামীর ঘরেই বসবাস করতেন। গত ক’দিন ধরে প্রতিবেশী সেলিম খান তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। ঘটনার রাতেও সেলিম তার ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করেছিলো। এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত সেলিম খানের মামা জানায়, মৃত হামিদ খানের স্ত্রী খারাপ চরিত্রের নারী। তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে তারই সৎ ছেলে (স্বামীর আগের স্ত্রীর সন্তান) আলমগীর সেলিমকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ সাজিয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীর ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কালু খান জানায়, ১১ জুন রোববার সকালে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমি দু’পক্ষের সাথে কথা বলে এটি সমাধানে চেষ্টা করবো। তবে এ ধরনের ঘটনায় এলাকার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়। আমরা সবাই এর সুষ্ঠ বিচার প্রত্যাশী। অপর দিকে ঘটনার রাত থেকেই বিষয়টি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে গ্রামবাসীর মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এলাকাবাসী দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পরে। বর্তমানে এ নিয়ে দুটি পক্ষই মুখো-মুখি অবস্থানে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে অনাকাঙ্খিত যে কোনো পরিস্থিতির আসংখ্যা করে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার অনুরোধ জানিয়েছে গ্রামের সচেতন মহল।
