
শওকত আলী ॥
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মতলব উওর,চাঁদপুর সদর ও হাইমচর এলাকার ৪০টি চরের মানুষ মারাত্বক দুর্ভোগ পৌহাতে হচেছ। এদের মধ্যে ১০/১২টি চরাঞ্চলের প্রায় ৪০হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পরেছে। শহরের নিন্ম অঞ্চল অবিরাম বর্ষনে প্লাবিত হয়ে গেছে। এ ছাড়া শহর তলীর ও শহরের অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট এখন পানির নীচে তলিয়ে যাওযায় দুর্ভোগে পরেছে হাজার হাজার মানুষ । এতে করে সকল শ্রেনী পেশার মানুষ এ পানির মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে মারাত্বক দুর্ভোগ পৌহাতে হচেছ। এদিকে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আগামী ২০ ও ২১আগস্ট পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সম্বাবনা রয়েছে।
সরজমিনে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা য়ায়, গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষনে চাঁদপুর শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন নিন্ম অঞ্চলের রাস্তা ঘাট ও ফসলি জমি বৃস্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। চাঁদপুর শহরতলীর মৈশাদী,বাবুরহাট,ইচলী,ডালিরঘাট,দোকানঘর,করেগো দোকান,আনন্দবাজার,মিয়ার বাজার,বিষ্ণনদী,তরপুরচন্ডী সহ সকল স্থানে বৃস্টির পানি আটকা পড়ে এলাকা বাসী মারাত্বক দুর্ভোগ পৌহাচেছ। তারা আটকা পড়া পানিতে থেকে কাজ কর্ম করতে পারছেনা। এ ছাড়া চাঁদপুর শহরের প্রধান সড়ক গুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ন অধিকাংশ সড়ক ও রাস্তা-ঘাট অবিরাম বর্ষনে তলিয়ে গেছে,এতে করে শহরবাসী মারাত্বক দুর্ভোগ পৈাহাতে হচেছ। এ পানি আটকা পরায় বিভিন্ন স্থানের মল মূত্র পানিতে ভেসে একাকার হয়ে গেছে। এ আটকা পড়া পানি মাড়িয়ে শহরবাসী চলাচল করতে গিয়ে বিষাক্ত পানি হতে পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শহরের প্রফেসার পাড়া,মমিনপাড়া,মোল্লা বাড়িরোড,কোড়ালিয়া,রহমতপুর কলনী, ট্রাকরোড,নাজির পাড়া,বকাউলবাড়ী,জেটিসি শ্রমিক কলনী,উওর শ্রীরামদী জামতলা,কয়লাঘাট,নিশিবিল্ডিং, বকুলতলা রেলওয়ে ১৪ নং কলনী ও রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কলনী,৫নং ঘাট, আক্কাছ আলী বস্তী,মাদ্রাসারোড,যমুনারোডসহ বিভিন্ন স্থানে বৃস্টির পানি আটকা পড়ে এলাকাবাসী মারাত্বক দুর্ভোগে পড়ে আছে। শহরের নাজির পাড়ায় পানি আটকা পড়ে কৃত্রিম বন্যায় রুপ নিয়েছে। চাঁদপুর শহরের অধিকাংশ স্থানে অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর,নালা,ডোবা ভরাট করে বাড়ি ঘর নিমার্ন করায় ও চাঁদপুর পৌরসভার অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার ফলে অবিরাম বৃস্টি হলে পানি আটকিয়ে পড়ে জনদুর্ভোগের সৃস্টি হচেছ। অপর দিকে শহরের একটি বিরাট অংশ রেলওয়ের জায়গা হওয়ায় হাজার হাজার এলাকাবাসী নিজেদের ইচছা মত অবৈধ ভাবে পৌরসভা থেকে কোন রকম অনুমতি ছাড়া বাড়ি ঘর নির্মান করায় সামান্য বৃস্টি হলে পানি আটকা পড়ে দুর্ভোগ পৌহাতে হয়। এ ছাড়া রেলওয়ের অসংখ্য পুকুর রয়েছে, এ সব পুকুরে মাছ চাষ করায়,পানি আটকিয়ে রাখায় ব্যাপক জলাবদ্বতা সৃস্টি হচেছ। এর প্রতি পৌর কর্তৃপক্ষের নজর না থাকায় শহরবাসী বেশী দুর্ভোগে পড়ছে বলে ভুক্ত ভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ করেন। অপর দিকে চাঁদপুর জেলার ৪০টি চরের মধ্যে ১০/১২টি চরাঞ্চলে নদীর পানি বেশী বৃদ্ধি পাওয়ায় ও অভিরাম বর্ষনের ফলে এখানে বসবাসরত প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে দুর্ভোগ পৌহাতে হচেছ। তারা খাদ্য ও বিশুদ্ব পানির অভাবের মধ্যে রয়েছে। এ সব চরের মানুষরা জানান,তারা সরকারী ভাবে বা কোন সংস্থা থেকে এ পর্যন্ত কোন সাহায্য পায়নি। উল্লেখ্য যোগ্য চর গুলো হচেছ,রাজরাজেশ^রচর,তারা বুনিয়ারচর,ইব্রাহিমপুরচর, বোরোচর,চরকাশিম,ফতেজংপুরচর,চরমনিপুর,মাঝেরচরসহ১০/১২ চরের মানুষ মারাত¦ক দুর্ভোগে রয়েছে। এ ব্যাপারে কথা হয় রাজরাজেশ^রচরের চেয়ারম্যান মো: হযরতআলী বেপারীর সাথে। তিনি জানান, এ সব চরাঞ্চলে মানুষ অধিকাংশ দিন মুজুর ও জেলে। এরা নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ায় ও অতিবর্ষনের ফলে এদের বাড়ি ঘরে পানি উঠে এরা পানি বন্ধি হয়ে পরেছে। এরা সরকারী,বেসরকারী কোন সাহায্য এ পর্যন্ত পায়নি। এদের জন্য সাহায্য অতিজরুরী প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবু রায়হান জানান,আমরা প্রতিদিন ৪ বার নদীর পানির লেভেল মেপে যে অবস্থা পাচিছ,তাতে ধারনা হচেছ, আগামী ২০ ও ২১আগস্ট পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সম্বাবনা রয়েছে।
গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত পানির লেবেল রয়েছে,৩দশমিক ৭ দশমিক ৩। বিকেল পর্যন্ত পানির লেভেল যা,রযেছে তাতে বিপদ সীমার কাছাকাছি রয়েছে। আর একটু বাড়লে বন্যার আশংকা রয়েছে। চাঁদপুর সিআইপি বাঁেধর পানি ডেনজার অবস্থায় রেয়েছে, একটু বাড়লে বাঁেধর উপর দিয়ে উপচে পড়বে। আমাদের সার্বক্ষনিক মনিটরিং রয়েছে।
