
শওকত আলী ঃ
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শহরের পুরানবাজার ও নতুনবাজার সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সেমাই প্রস্তুকারকরা রাত দিন কাজ করে দেদারছে তৈরি করছে নি¤œমানের নানা ধরনের সেমাই। প্রতিবছর এসব কারখানাগুলোকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পোড়া ভোজ্য তেল ব্যবহার, নিষিদ্ধ ঝুড়ি সেমাই তৈরিসহ নানা কারনে ভ্রাম্যামান আদালতের মাধ্যমে জরিমাণা আদায় করা হয়। তাই প্রথমবারের মত এ বছর রমজানের পূর্বেই চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মানসম্মত সেমাই তৈরির জন্য কারখানার শ্রমিকদেরকে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষন নিলেও তা মানছে না কেউ। পূর্বের ন্যায় যে যার ইচ্ছে মতই চালাচ্ছে সেমাই তৈরির কার্যক্রম। অনুমোদনহীন বিভিন্ন নামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হওয়া এসব খোলা সেমাই খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পরছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদি ইউনিয়নের হারুন বেকারী, শহরের বাসষ্ট্যান্ড মধুফুড বেকারী, হাজী মহসিন রোডের ঢাকা কনফেকশনারী, বাবুরহাট আর এস ফুড বেকারী, পুরানবাজার রয়েজ রোড এলাকার কোহিনুর বেকারী, ফায়ারসার্ভিস সংলগ্ন আলম বেকারী, মীম বেকারী, বাতাসা পট্টিতে প্রাইম বেকারী, হাজী বেকারী, মতলব উপজেলায় ২ টি, হাজীগঞ্জে ২ টি, ফরিদগঞ্জে ১টি, কচুয়ায় ১টি সহ জেলা উপজেলায় এ ধরনের অসংখ্য কারখানায় সেমাই তৈরি হচ্ছে বলে জানাযায়।
সরজমিন ঘুরে দেখাযায়, কারখানাগুলো পূর্বের চাইতে আরো নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার নাম মাত্র নেই। খোলা সেমাই তৈরিতে প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা। উল্লেখিত অধিকাংশ সেমাই কারখানাগলোতে দীর্ঘদিনের পোড়া নি¤œমানের পামওয়েল ও রেফ সিট (যা মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর) জাতীয় তেলে ভাজা হচ্ছে সেমাই। কারখানাগুলোতে দীর্ঘ এলাকা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে খোলাসেমাই সাজানা রয়েছে। শ্রমিকদের হাতে নেই হ্যান্ডগ্লাবস, ময়লা ও স্যাতস্যাতে পরিবেশ বিরাজ করছে এসব সেমাই কারখানাগুলোতে। সেমাই তৈরির ময়দার খামিরের উপরে নেই ঢাকনা। এতে করে শ্রমিকদের শরীরের ঘাম ও এ খামিয়ে পড়া ঘাম সেমাই তৈরির খামিরে পড়তে দেখা যাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে অস্বাস্থকর পরিবেশ ও নি¤œমানের পণ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে এসব সেমাই।
আরো দেখা যায়, সেমাই প্যাকেটজাত না করে অধিক মুনাফার আশায় পলিথিন মুড়িয়ে বাশের তৈরি ঝুঁিড় করে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করছে মালিকরা। প্রশাসনিকভাবে এধরনের অস্বাস্থকর ঝুঁড়ি সেমাই তৈরি করা নিষিদ্ধ রয়েছে বলে জানাযায়। কোন কোন বেকারী প্রস্তুতের অনুমোদন নিলেও অনেকেই অনুমোদন না নিয়ে সেমাই তৈরিতে ব্যস্থ হয়ে পরেন।
শুধু খোলা সেমাই তৈরিই নয় অনেক কারখানায় বিভিন্ন নামীদামী ব্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে অনেকে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে।
কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানায়, কয়েকদিন পর ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে নিজ বাড়ীতে চলে যাবো। তাই পূর্ব থেকেই সেমাই প্রস্তুত করে বাজারজাত করনে আমাদের কাজের ব্যস্ততা একটু বেশি। মালিকরা আমাদেরকে যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছে আমরা সেভাবেই কাজ করছি। তা স্বাস্থ্য সম্মত কিনা আমরা জানিনা।
পুরানবাজার আলম বেকারী এন্ড ফুডসের স্বত্তাধিকারী ০৭নং পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ আলম বেপারী জানান, আপনারা অন্যান্য ফ্যাক্টরীগুলোতে ঘুরে আসেন, তারা আমাকে ফোন করলে আমি আাপনাদের সাথে যোগাযোগ করবো।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মিজানুর রহমান জানান, নি¤œমানের তেলে ভাজা এসব সেমাই খেয়ে শিশূ সহ সকল ধরনের বয়সের মানুষ অসুস্থ হয়ে পরার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্যাষ্টিক, আলসার, ডায়রিয়া সহ নানা ধরনের রোগ হতে পারে।
এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর সেমাই প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।
চাঁদপুরে ভেজাল ও নিন্মমানের সেমাই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা বক্তব্য
ভেজাল ও নিন্মমানের সেমাই সম্পর্কে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা কানিজ ফাতেমার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,একটি মাধ্যম থেকে ভেজাল সেমাই সম্পর্ক জানতে পেরেছি। নির্ধারিত ভাবে অভিযোগ পাওয়া মাত্র সাথে সাথে অভিযান চালাব এবং ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।ঈদ উপলক্ষে মোবাইল মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে। নিধারিত ভাবে কোন অভিযোগ পাইনি। তবে কোথায় ভেজাল সেমাই তৈরী হচেছ,তা জানা মাত্র ব্যবস্থা গ্রহন করবো।সামনে ঈদ ঈদে সেমাই,ই তো মূল। ঈদকে সামনে রেখে কোন পক্ষ ঈদ উপলক্ষ্যে সুযোগ গ্রহন করার চেস্টা করবে তা হতে দেওয়া হবে না। অভিযোগ আসতেছে সেহেতু বিষয়টি দেখা হবে। কাল-পরশু বাজার মনিটরিং কমিটি ও মোবাইল টিমসহ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
