টানা বর্ষণে চাঁদপুরে ২৬শ’ ৯৬ হেক্টর জমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
টানা বর্ষণে চাঁদপুরের বোরো চাষী কৃষকদের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে । অবিরাম বৃষ্টির কারনে চাঁদপুরের সর্বস্তরের বোরো চাষীরা আতংকে রয়েছে। এখন বোরো ধান কাটার উপযুক্ত সময়, আর এ সময়েই টানা বর্ষণে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের অধিকাংশ জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আবার অনেকে ধান কেটেও মহাবিপদে রয়েছে। ফলে আশির্বাদের বৃষ্টি অভিশাপে রূপ নিয়েছে।
সম্প্রতি চাঁদপুরের অনেক ফসলী জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকের চোখের ঘুম হারাম করেছে। আর সেজন্য কৃষকরে ভোগান্তি ও বেড়েছে বহুগুণ। দেশে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে চাঁদপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক নিচু জমির পাকা ধান কাটতে কৃষকদের মারাতœক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেকের পাকা, আধা পাকা ধান বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে আছে। এ ছাড়া কৃষকরা কয়েকশত হেক্টর জমির ধান কেটে বিপাকে পড়েছে।
চাঁদপুর জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে এ বছর জেলার ১২শ’ ২৫ হেক্টর বোরো ধান, রোপাআমন ৪০, পাট ২০, ভূট্টা ৮শ’ ১০, মরিচ ১শ’ ৫০, মুগ ১০, সোয়াবিন ২শ’ ৩০, আউশ বিচতলা ২শ’ ১১ হেক্টর জমি প্ল¬াবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত টাকার পরিমাণ এখনো করা বাকি রয়েছে। দু’ এক দিনের মধ্যে করা হবে বলে কৃষি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা নরেশ বাবু সংবাদকর্মীদের জানিয়েছে।
গতকাল সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুরের অনেক নিচু জমির পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা মহা বিপাকে পড়তে হয়েছে। ফলে পাকা- আধাপাকা ধানের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকা রয়েছে কৃষকদের। টানা বর্ষণে এবং বর্ষার আগমনে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানের খাল ডোবাসহ বিভিন্ন গর্তে পানি ভরাট থাকায় নিচু ধানী জমির পানি নিস্কাসনের কোন ব্যবস্থা করতে পারছেনা কৃষকরা। ফলে চরম হতাশায় রয়েছে চলতি মৌসুমের বোরো ধান চাষী কৃষকরা।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নের চরমৈশাদী বিলের কৃষক ও ইউপি মেম্বার মোশারফ হোসেনের ২ একর জমির ইরিবোরো ধান পানির নিছে তলিয়ে গেছে। একই গ্রামের রিয়াদ হোসেনের ১ একর, মাহবুবের ১ একর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার সেলিম বেপারীর ২ একর জমির সোনালী ধান প্ল¬াবিত হয়েছে। এ ওয়ার্ডের রফিক বেপারী, তাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের অধিকাংশ জমির ধান প্ল¬াবিত হয়েছে। এতে পাকা, আধা-পাকা ধান ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার মোশারফ হোসেন ও সেলিম বেপারী বলেন, এ বছর জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু অতিবর্ষণে অধিকাংশ জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যার কারনে তাদের অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে। অনেক কৃষক বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ইরিবোরো চাষাবাদ করলেও এখন তাদের ধান প্ল¬াবিত হওয়ার কারনে কৃষকদের চোখে মুখে অমাবর্ষা নেমে এসেছে। এ ছাড়া ও শ্রমিক সংকট থাকার কারণে ধান কাটতে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়েছে।