শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ চাঁদপুর শহরের মুন হসপিটালে চিকিৎসকের অবহেলায় ৪ দিন বয়সী নবজাতক শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় স্টেডিয়াম রোডস্থ ওই হসপিটালে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজারগাঁও গ্রামের দুবাই প্রবাসী আহম্মদ উল্লাহর ছেলে। এ ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতে শিশুর মামা,নানা চাঁদপুর মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওলিউল্লাহ্ ওলিকে বিষয়টি অবগত করেন। এসময় ওসি তাদেরকে বলেন মামলা দিলে নবজাতক শিশুকে পোষ্টমডেম কওে মৃত্যুও কারন জানা যাবে। ওসির বিভিন্ন ধরনের কথা শুনে নবজাতকের অভিভাবকরা ভয় পেয়ে অভিযোগ না দিয়ে হাসপাতালে গিয়ে রুগির চিকিৎসা বাবদ ১৪ হাজার টাকা দিয়ে রুগিকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ সময় হাসপাতালের পার্টনার চাঁদপুর জেলা বিএমএ সভাপতি ডাক্তার মাহমুদুরনবী মাসুম শিশু মৃত্যুর কারনে ৭ হাজার টাকা কম দিতে বলেন রুগীর অভিভাবকদের। এতেই প্রমানিত হয় হাসপাতালের গাফিলতীর কারনে নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যার ফলে এ সময় সকলে মন্তব্য করেন,শিশুর জীবনের মূল্য কি মাত্র ৭হাজার টাকা। পরক্ষনে দুপুর ৩টায় চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আওলাদ ও অন্য এক জন পুলিশ অফিসার ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে চাঁদপুর শহরের মুন হাসপাতালে যান ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য। এ সময় রুগির অভিভাবকের সাথে বিভিন্ন বিয়ষ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়।
নিহতের মামা সফিক গাজী জানান, স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসা নেয় তার বোন জান্নাতুল ফেরদৌস। গত সোমবার (২৩ জুলাই) দুপুরে প্রসব বেদনা হলে উল্লেখিত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিজারিয়ান করেন ডাঃ শামসুন্নাহার তানিয়া। এতে জান্নাত একটি পুত্র সন্তান জন্মদেন। জন্মের পর থেকে শিশুটির শ^াস কষ্ট হয়। কিন্তু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকরা শিশুটি সুস্থ্য আছে বলে জানান।
জান্নাতের পিতা লুৎফুর রহমান গাজাী জানান, সিজারিয়ান থেকে শুরু করে সর্বশেষ শিশুটি মৃত্যু পর্যন্ত আমি হসাপাতালে ছিলাম। শিশুটির ঠান্ডাজনিত কারণে কষ্ট হচ্ছে বার বার চিকিৎসককে বলা হলেও তারা কোন কথা আমলে নেয়নি বরং বলেছে শিশুটি সুস্থ্য আছে।
শিশুটির মা জান্নাত বলেন, জন্মের পর থেকেই শিশুটি বুকের দুধ খেতে চায়নি। এ বিষয়টি চিকিৎসকদের জানালেও তারা কথা আমলে নেয়নি। চিকিৎসক বলেছে আজকে না খেলে কালকে খাবে চিন্তা করবেন না। কিন্তু এ অবস্থায় সকাল ১১টায় আমার শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের হসপিটালে একাধিক আবাসিক চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসকরা রোগীর লোকদেরকে শিশু চিকিৎসক দেখানোর কথা বলেছেন। তারা শিশু চিকিৎসক দেখাননি। এই বিষয়ে আমাদেরকেও চিকিৎসক কিংবা রোগীর লোকজন জানায়নি।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়ালি উল্যাহ ওলি জানান, বিষয়টি আমি রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে জেনেছি। দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রোগীর স্বজনরা কোন মামলা করতে রাজি হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর অভিভাবকদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবে।
