প্রতিনিধি ঃ
ভারত থেকে পিতা কর্তৃক পুত্র চুরি করে বাংলাদেশের নিয়ে আসার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভারতের ইন্দ্রিরা নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ওই শিশু পুত্রের মা। ঘটনাটি গত ১১ জানুয়ারী বুধবার ভোর সাড়ে ৫টায় ভারতের ইন্দ্রিরা নগরের মেলাঘর নামক স্থানে ঘটে।
জানা যায়, চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর পশ্চিম পাড়ার মাইজের বাড়ির মৃত আবদুল মমিনের পুত্র হাসান আলী কর্ম করতে ভারতের ইন্দ্রিরা নগরে যান। সেখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস করা মেলাঘরের ইদ্রিস মিয়ার কন্যা হাসিনা আক্তারের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়িলে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। ৩ সন্ত্রানের জন্মের পর তাদের দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হলে হাসান আলী নিজ দেশে ফিরে আসেন। স্ত্রীকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে হাসান আলী ৫ জানুয়ারী মেলাঘর যান। স্ত্রীকে আনতে ব্যর্থ হলে তিনি তার শিশু পুত্র তোফাজ্জল হোসেন (৫) কে চুরি করে ঘটনার দিন ভোর রাত পালিয়ে গত ২১ জানুয়ারী শনিবার রাতে নিজ দেশে চলে আসেন। পুত্র শোকে মুহ্যমিত মা হাসিনা অবশেষে বাংলাদেশ আসেন এবং পরস্পর আতœীয় স্বজনদের সংঙ্গে নিয়ে স্বামীর পৈত্রিক ভিটায় অবস্থান করেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন হাসিনা। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে আপোষ মিমাংসার আলোকে শিশু পুত্র তোফাজ্জলকে মায়ের কোলে তুলে দেন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আর মা তার সন্ত্রানকে বুকে জড়িয়ে চলে যান ভারতের মেলাঘরে।
এ ব্যাপারে হাসিনা বেগম বলেন, ভারতে কেউ বেকার বসে খায় না। আমিও একটি হাসপাতালে চাকুরী করি। অথচ আমার স্বামী সেখানে কোন কাজ কর্ম না করায় আমাদের মধ্যে অন্তর দ্বন্দ দেখা দেয়। আর এ কারণেই তিনি ওই দেশ ত্যাগ করেন এবং এক পর্যায় আমার সন্তানকে চুরি করে নিয়ে আসেন। আমি আমার সন্ত্রানকে ফিরে পেয়েছি এতেই আমি সন্তুষ্ঠ।
হাসান আলী বলেন, আমি আমার ছেলেকে বেড়াতে এনেছি। চুরি করে আনিনি। তাই আমি স্বেচ্ছায় আমার স্ত্রী হাসিনার কোলে তাকে তুলে দেই।
এলাকাবাসী বলেন, হাসান আলী অসহায় ও গরীব। কিন্তু এমন কাজটি অবশ্যই অন্যায়। যে কারণে আমরা শিশু সন্তানটিকে মায়ের কোলে তুলে দেই।
