শওকত আলী॥
দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ৩টি বিলের প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির পানি সরবরাহ হুমকির মুখে ফেলে খাল দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্যক্তিগত রাস্তা। সরেজমিনে মতলব উত্তর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের মমরুজকান্দি গ্রামের ফকির বাড়ির সামনে ঘুরে দেখা যায়, ৩৬ ফুট চওড়া পানি নিষ্কাশন খালের সিংহ ভাগ দখল করে আব্দুর রশিদ ফকির গংরা নির্মাণ করছে, ব্যক্তি চলাচলের জন্য আরসিসি পিলার করে ব্যক্তিগত রাস্তা। ফলে কলসভাঙ্গা-মমরুজকান্দি, ইসলামাবাদ ও সুজাতপুর বিলের প্রায় ৫০০ হেক্টর আবাদি জমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা হুমকির মুখে। সামনে বর্ষা মৌসুম। এ ৩টি বিলের পানি এ খাল দিয়ে নিষ্কাশন হয়। এ রাস্তা নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্থ হবে। এবং রোপা আমন মৌসুমে পানি মূল খালে নামতে পারবে না। ফলে রোপা আমন লাগানো সম্ভব নাও হতে পারে। এ বিষয়ে অবৈধভাবে খাল দখলকারী আব্দুর রশিদ ফকির সাংবাদিকদের সাথে খাল দখল করে রাস্তা নির্মাণ করার কথা স্বীকার করেন। এবং খালটি যে সম্পূর্ণ সরকারি তাও তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সরকারি খালের কিছু অংশ এ রাস্তায় পড়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বললে তারা জানায়, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সরকারি খাল দখল করে আব্দুর রশিদ ফকির গংরা ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণ করছে। এতে ৩টি বিলের ধান আবাদকারী কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা ভূমি সহকারি কমিশনার এবিএম রুহুল আমিন রিমন বলেন, বিনা অনুমতিতে এক ইঞ্চি সরকারি জায়গা দখল করার ক্ষমতা কারো নেই। এ ধরনের কিছু হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৫নং দূর্গাপুর ইউপি চেয়ার্যান দেওয়ান মো. আবুল খায়ের বলেন, দশজনের ক্ষতি করে ব্যক্তিগত পর্যায়ের কোন স্থাপনা সরকারি খাল দখল করে রাস্তা করতে দেওয়া হবেনা। এ ব্যাপারে আমি খোঁজ নিবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন সরকার বলেন, পানি নিষ্কাশন খাল দখল করে প্রকল্পের ক্ষতি হবে এমন কোন ষ্ট্রাকচার করতে দেওয়া হবেনা। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
