প্রতিনিধি
শাহরাস্তিতে বিয়ের প্রলোভনে ৭ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে ছাত্রীটির পরিবারের পক্ষ থেকে। গতকাল সোমবার সকালে কথিত ওই ধর্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। উপজেলার টামটা ইউনিয়নের বলশীদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ওই ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে বলশীদ গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মান্নানের পুত্র মোঃ সিহাব হোসেন (১৭) গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে বিয়ের প্রলোভনে বাড়ি হতে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্র্তীতে হাজীগঞ্জ উপজেলার বেলঘর, শাহরাস্তির সেতরা ও শেষে আলীগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় রেখে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় সিহাব কম্পিউটারের মাধ্যমে জাল জন্মসনদ প্রস্তুত করে বিয়ের নাটকও সাজায় বলে তারা জানায়। ওই ছাত্রীর বাবা জানান, আমি নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে গেলে সাবেক ইউপি সদস্য নুর আলম ও তার মামা মোঃ কামাল হোসেন মেয়েকে এনে দিচ্ছি বলে টালবাহানা করে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে সিহাবের পরিবারের পক্ষ হতে দীর্ঘ দেন দরবার ও কতেক সালিস সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৩ বার দর কশাকশি হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হয়ে সিহাব ও তার সহযোগী বলশিদ গ্রামের আনোয়ার উল্লাহর পুত্র জাবেদ গতকাল সকালে ওই ছাত্রীকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেশীরা বাধা দিতে এলে সিহাব ও তার সহযোগী জাবেদের হামলায় পার্শ্ববর্তী বাড়ির আনসার সদস্য মোঃ হুমায়ুন কবীর আহত হন। পরে স্থানীয়রা সিহাবকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ খোরশেদ আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। শাহরাস্তি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ নূর হোসেন মামুন জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত সিহাব এলাকায় চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ ও বেপরোয়া প্রকৃতির। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতা শুভকে চুরিকাঘাত ও মাদককের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পূর্বের দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে মর্মে শাহরাস্তি থানা সূত্র জানায়।
