হাইমচর উপজেলার নয়ানী লক্ষ্মীপুর গ্রামে আপন ফুফাত ভাই কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত ওই ছাত্রীটিকে প্রথমে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে হাইমচর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ১০ বছর বয়সী ওই ছাত্রীটি গতকাল ১৩ নভেম্বর দুপুর বেলায় পাশের বাড়ির বান্ধবীর সাথে খেলাধুলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা আপন ফুফাত ভাই একই এলাকার সলেমান শেখের বখাটে ছেলে মোশাররফ হোসেন তাকে মুখ চেপে ধরে বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন ছাত্রীটির চিৎকারে তার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন এসে তাকে বখাটের হাত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং বখাটে মোশাররফকে আটক করে। পরে মোশাররফের বড় ভাই জাল টাকার কারিগর হারুন, মোবারক ও মনির এসে তার ভাইকে স্থানীয় জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। আর এ ঘটনায় মামলা বা কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দিয়ে যায়। ছাত্রীটিকে প্রথমে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েভর্তি করার পর তার আর্তচিৎকারে হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় পরবর্তীতে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এলাকাবাসী জানায়, মোশাররফ ও তার ভাই হারুন জাল টাকার কারিগর। দীর্ঘদিন হতে তারা জাল টাকার ব্যবসা করে বর্তমানে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে এবং এলাকাতে স্কুল পড়ুয়া মেয়েদেরকে ইভটিজিং ও বিভিন্ন অপরাধের কাজে জড়িত।
ছাত্রীটির অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে সিনিয়র নার্স গীতা রাণী জানান, মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টার স্পষ্ট আলামত আমি দেখেছি। তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, আমি ঘটনাটি জানতে পেরেছি। মেয়েটির চিকিৎসা শেষে মামলা হলে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

