শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
চাঁদপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শামীমকে হাতে-পেটে উপর্যপুরি চুরিকাঘাত ও পায়ের রগ কেটে ডাকাতিয়া নদীতে নিক্ষেপ করার ঘটনায় মডেল থানায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শামীমের মা সাগরী বেগম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ২৮ তারিখঃ১২/১১/২০১৫। পুলিশের হস্থক্ষেপে রক্ষা পেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শামীমের প্রান। ঘটনারদিন রাতে তার মা ও স্বজনরা চাঁদপুরে না থাকায় সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার পর তার বাবা জাহাঙ্গীরকে বাড়ি থেকে পুলিশ ধরে এনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মাসুদ সামিম এই ঘটনার সাথে জরিতদের আটক করতে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে বলে তিনি জানায়। আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শামীম এখন ঢাকা মেডিক্যাল হাসপালের ভর্তি রয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার (৭ নভেম্বর) দিনগত রাত ১১টার দিকে চট্রগ্রাম সাউদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শামীম (১৭) কে হাতে-পেটে উপর্যপুরি চুরিকাঘাত ও পায়ের রগ কেটে ডাকাতিয়া নদীতে নিক্ষেপ করেছে গিয়াস ও নিরব নামে দুই সহপাঠি। চাঁদপুর সেতুর উপর থেকে তারা তাকে নদিতে ফেলে দেওয়ার পর জেলেরা উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। পরে পথচারিরা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়।
ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই মাসুদ সামিম ও নতুনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই সূদর্শন কুড়ি হাসপাতালে গিয়ে আহতের খোঁজ খবর নেয় এবং বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে নিয়ে এসে তার চিকিৎসার ব্যাবস্থা করে।
টাকা লেন-দেন নিয়ে ব্যাংক কলোনির গিয়াস ও নিরবসহ আরো অজ্ঞাতনামা ২জন যুবক তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে।
আহত শামীমের বাবা জাহাঙ্গীর ১৯৯৮ সালে তার ২য় স্ত্রীকে তালাক দেয়। পরে ২য় স্ত্রী সাগরী বেগম ছেলে শামীমকে নিয়ে চট্রগ্রামে এসে গার্মেন্টসে চাকরি করে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। শামীমেম বাবা তাদের পরিচয় না দিয়ে দির্ঘদিন যাবত সৈদি আরব থেকে ১ম স্ত্রী ও ছেলের খরচ চালান।কয়েক বছর পূর্বে শামিম চাঁদপুর কলেজে এসে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা করা অবস্থায় তার সৎ ভাই তাকে মারধর করার পর সে আবার চট্রগ্রাম গিয়ে সাউদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হয়ে পড়ালেখা শুরু করে। শনিবার দুপুরে শামিম ট্রেন যোগে চাঁদপুরে আসার পর রাতে তার সহপাঠি নেশাখোর ৪ যুবক তাকে নিয়ে ব্রিজের উপর এনে ছুড়িকাঘাত করে নদীতে ফেলে দেয়। তবে এই ঘটনার সাথে তার বাবা ও সৎ ভাই জড়িত আছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

