স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরের কৃতী সন্তান, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী হাজী মোঃ কাউছ মিয়া ২০১৫-২০১৬ করবর্ষে ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে ‘সেরাদের সেরা’ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা ও ট্যাঙ্কার্ড পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। গত ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন জাতীয় রাজস্ব ভবনে জাতীয় আয়কর সপ্তাহ ২০১৬ উদ্বোধন ও সেরা করদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে তার হাতে ক্রেস্ট ও ট্যাঙ্কার্ড তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অথর্মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। এ সময় দেশের নামী দামি শীর্ষ ১শ’ ৪০ করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
এই নিয়ে হাজী মোঃ কাউছ মিয়া পরপর ২বার সমগ্র বাংলাদেশের ১৮ লাখ করদাতার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতি পেলেন। স্বাধীনতার আগে একবার এবং স্বাধীনতার পরবর্তীতে ১০বার মোট ১১ বার দেশের শীর্ষ করদাতার সম্মাননা অর্জন করে বিরল রেকর্ডের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৮৬ বছর বয়সী প্রবীণ এই ব্যবসায়ী।
১৯৫৮ সাল থেকে নিয়মিত কর দিয়ে আসছেন তিনি। হাকিমপুরী জর্দা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির মালিক কাউছ মিয়ার জন্ম চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে। স্টেশনারী দোকান দিয়ে চাঁদপুর শহরের বাণিজ্যিক এলাকা পুরাণবাজারে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। বাবার আগ্রহ থাকার পরও লেখাপড়া খুব একটা করতে পারেননি কাউছ মিয়া। মায়ের সহযোগিতায় আড়াই হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। মা বলেছিলেন, ন্যায় পথে থেকে ব্যবসা করতে। মায়ের কথা অনুসরণ করে সারা জীবন ব্যবসা করছেন। কাউছ মিয়া মনে করেন, সৎভাবে ব্যবসা করেও ভালো ব্যবসা করা যায়। মানুষের অন্তরটাই আসল। অন্তর (দিল) পরিষ্কার থাকলে ভালো চিন্তা আসবেই। তিনি জানান, যার আয় আছে, সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেককে কর দেয়া উচিৎ। জোর করে কর আদায় করা যায় না বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা কখনও নেননি। বরং ব্যাংকই তার টাকা খাটিয়ে ব্যবসা করেছে। জমিদার নানা মৌলভী আব্দুস সালাম সাহেবের চাঁদপুরের বাড়িতে বেড়ে ওঠা সফল এ ব্যবসায়ী ১৯৫০ সালে প্রথম ব্যবসায় নামেন। তিনি পুরাণবাজারে ভাড়ায় চালিত স্টেশনারী দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। তিন বছরে বাজারে ছয়-ছয়টি দোকানের মালিক হন। পরে স্টেশনারী ব্যবসার পাশাপাশি ১৯৫৫ সালে তামাক ব্যবসায় নামেন, ভালো মুনাফাও করেন তিনি। এ ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির ১৮টি সোল এজেন্ট নেন। চাঁদপুরে ২০ বছর ব্যবসা করার পর ১৯৭০ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জে আসেন। নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে পূর্বের সোল এজেন্টের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় তার ভাগ্য সবসময়ই সুপ্রসন্ন, এখানেও রমরমা ব্যবসা জমে উঠে তার। হাজী মোঃ কাউছ মিয়ার পিতার নাম মরহুম হাজী আব্বাস আলী মিয়া ও মাতা মরহুমা মোসাম্মৎ ফাতেমা খাতুন।
