প্রতিনিধি ॥
হাজীগঞ্জে শ্রী শ্রী রাজা লহ্মী নারায়ণ জিউড় আখড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দু’গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষে ১৫জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৫জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে ফিরে গেছেন। হাসপাতালে ভর্তিকৃত আহতরা হলেন, শ্যামল কৃষ্ণধর, যুগল কৃষ্ণ সরকার, দীপক কুমার সাহা, যুগল সাহা, সঞ্জয় দাস। এছাড়াও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন জয়ন্ত আইচ, সঞ্জয় সাহা, বিশ^জিত সাহা, পিন্টু চক্রবর্তী ও নয়ন চক্রবর্তী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১০টায়) গৌরপদ সাহা পক্ষের আহত ৫জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানা সূত্রে জানাযায়, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার সময় আদালতের নির্দেশে মন্দিরের নিয়োগপ্রাপ্ত রিসিভার উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মণি সূত্রধর লহ্মী নারায়ণ জিউড় আখড়ায় গেলে সেখানে মন্দিরের স্বঘোষিত কমিটির সভাপতি দিলীপ কুমার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সত্যব্রত ভদ্র মিঠুনসহ তাদের পক্ষের বেশ কয়েকজন দেখতে পায়। এর পরে মন্দিরে আরেকটি স্ব-ঘোষিত কমিটির সভাপতি গৌরপদ সাহা তাদের গ্রুপ নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পর অজ্ঞাত কয়েকজন যুবক মন্দিরের রিসিভারকের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তেড়ে যায়। রিসিভার থানায় ফোন করলে থানা থেকে অফিসার ইনচার্জ মো. শাহআলম এলএলবির নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদশীরা জানান, প্রথমে সত্যব্রত ভদ্র মিঠুনের পক্ষের লোকজন গৌরপদ সাহার পক্ষের লোকজনের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনের তর্ক-বিতর্ক হাতা-হাতিতে রূপ নিয়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার। এ ঘটনায় গৌরপদ সাহা তার পক্ষের ৭জন আহত হয়েছে বলে দাবী করেন। এদের মধ্যে ৫জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসাপতালে চিকিৎসাধীনরা জানায়, আমরা প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যাকালীণ সময়ে পূজা দিতে গেলে সত্যব্রত ভদ্র মিঠুনসহ তার পক্ষের বিশ^জিত সাহা, লিটন পাল, গৌতম সাহা, জয়ন্ত আইচ ও টিটু চক্রর্তীসহ একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় সত্যব্রত ভদ্র মিঠুন বলেন, অতর্কিত হামলার প্রশ্নেই আসেনা। মন্দিরের কমিটির বিরুদ্ধে যারা মামলা করেছে তারা মন্দিরের হরিণামযজ্ঞের ব্যানার ছিঁড়তে ঢুকলে ভক্তবৃন্দরা তাদেরকে বাঁধা প্রদান করে। তিনি আরো বলেন, মন্দিরে রিসিভারের সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছে আদালত। তার পরেও তিনি রিসিভারের দাবী নিয়ে মন্দিরে দলবল (মামলার বাদী পক্ষের লোকজন) নিয়ে এসে গন্ডগোল বাঁধানোর চেষ্টা করে। তিনি বলেন আমাদের কমিটির কার্যক্রম আদালত স্থগিত বা বাতিল করেনি। আমাদেরকে হরিনামযজ্ঞও চালিয়ে যেতে বলেছেন। সে কমিটিও বাতিল করা হয়নি। এ উশৃঙ্খল ঘটনার জন্য আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনায় শ্রী শ্রী রাজা লহ্মী নারায়ণ জিউড় আখড়ার রিসিভার নয়ন মণি সূত্রধর বলেন, আমি মন্দিরের রিসিভার,তাই প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল (সোমবর) মন্দিরের কার্যক্রম পরিদর্শনে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি মন্দিরের ভেতরে সত্যব্রত ভদ্র মিঠুন সহ তাদের পক্ষের বেশ কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে মধ্য বয়সী একজন হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে মন্দিরের ভেতরে ঘুরা-ফেরা করছে ও উশৃঙ্খল ভাষা ব্যবহার করছে। এর মধ্যেই মন্দিরের বাদী পক্ষের (যুগল সাহা) লোকজন মন্দিরে প্রবেশ করলে মিঠুন ভদ্রের লোকজন তাদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে মারা-মারি শুরু হয়। রিসিভার আরো জানান, সম্প্রতি সময়ে দিলীপ কুমার সাহা সভাপতি ও সত্যব্রত ভদ্র মিঠুনকে সাধারণ সম্পাদক করে মন্দিরের যে কমিটি গঠন করেছে তা আদালত বাতিল করে দেয়। শুধু তাই নয়ই তাদের গঠিত মন্দিরের বার্ষিক হরিণামযজ্ঞ কমিটিও বাতিল করে দেয় আদালত। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম (এলএলবি) জানান, মন্দিরের রিসিভার নয়ন মণি সূত্রধরের ফোন পেয়ে আমরা মন্দিরে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সবাইকে সরিয়ে দিয়ে মন্দিরের দৈনন্দিন ধর্মীয় কার্যক্রম পালনে ভক্তবৃন্দদের সহযোগিতা করি। মন্দিরের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এএসপি সার্কেল (হাজীগঞ্জ) মো. মনজিল হোসেন। এছাড়াও মন্দিরের উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর শুনে মন্দিরে ছুটে যান উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ মুন্সি, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি আল আশরাফ দুলাল।
