
হাজীগঞ্জে নিজ শয়নকক্ষে মাইক্রো চালক মজনু হোসেন (২৮) নামের একজন খুন হয়েছেন। হত্যার শিকার মজনু পৌরসভার টোরাগড় এলাকার আনোয়ার হোসেন মিজির ভাড়া বাড়ির দোতলায় মা ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীসহ ভাড়া থাকতেন। মঙ্গলবার ভোরে মজনুর লাশের সন্ধানের পর হাজীগঞ্জ থানা পুলিশসহ পিবিআই আলামতসহ লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাটি পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই তদন্ত করছে। তবে তাৎক্ষণিক মজনু খুনের কোনো ক্লু পুলিশ পায়নি বলে জানিয়েছে। মজনু ওই গ্রামের গাইন বাড়ির মরহুম আমিন মিয়ার ছেলে। একইদিন ভিন্ন দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মোঃ আব্দুল আজিজ মজুমদার (২৫) নামের অপর এক পিকআপ চালক ও মোঃ রায়হান (১৮) নামের আরেকজন মারা গেছেন।
মজনু হত্যাকা-ের বিষয়ে তার পারিবারিক সূত্র জানায়, মজনু ভাড়া বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি কক্ষে থাকতেন। পাশের আরেকটি কক্ষে তার বয়স্ক মা ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী থাকতেন। সোমবার দিবাগত রাতের কোনো একসময়ে নিজ কক্ষে মজনু হত্যাকা-ের শিকার হন। ভোরে মজনুর মা মজনুকে ডাকতে গিয়ে সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে লাশ দেখে চিৎকার শুরু করেন।
নিহতের ভাই মন্টু জানান, তার মা রূপবান বেগম ও ছোট ভাই প্রবাসী মফিজের স্ত্রী মাহমুদাসহ মজনু হোসেন একই ফ্লাটে বাসা ভাড়া থাকেন। ফ্লাটের সামনের রুমে মজনু ও পেছনের রুমে মাসহ তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী থাকেন। তিনি (মন্টু) স্ত্রী-সন্তানসহ পাশাপাশি কক্ষে ভাড়া থাকেন। এদিন রাতে তিনি অসুস্থতাবোধ করায় ভোরে মায়ের কাছে গিয়ে মজনুর রুমের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান।
এরপর তিনি রুমের ভেতরে প্রবেশ করে খাটের উপর লেপের নিচে মজনুর পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার দেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত হয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে দেখতে পান। পরবর্তীতে মাহমুদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মোঃ আফজাল হোসেন, হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন রনি, পিবিআই পরিদর্শক মোঃ আবু বকর সিদ্দিকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মোঃ আফজাল হোসেন জানান, হত্যাকা-ের আলামত সংগ্রহ এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আশা করি, খুব দ্রুত হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এই হত্যাকা-ের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
একইদিন (মঙ্গলবার) সকালে কুমিল্লায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় হাজীগঞ্জের বাসিন্দা, পিকআপ (মিনি ট্রাক) চালক মোঃ আব্দুল আজিজ মজুমদার ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তিনি কুমিল্লা জেলার নিমসারবাজার থেকে কাঁচা বাজার (শাক-সবজি) আনার উদ্দেশ্যে পিকআপ নিয়ে হাজীগঞ্জ থেকে কুমিল্লায় যান এবং সেখানেই তিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান। নিহত আব্দুল আজিজ মজুমদার উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর মজুমদার বাড়ির মোঃ ফয়েজ মজুমদারের ছেলে। এদিন দুপুরে জানাজা শেষে নিহত আব্দুল আজিজ মজুমদারকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এছাড়া একইদিন সকালে শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক স্টেশন বাজারের পেট্রোল পাম্পের সাথে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি মিশুক ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে অটোরিকশা যাত্রী মোঃ রায়হান হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ সময় অটোরিকশা চালক আরিফ হোসেন, যাত্রী মোঃ রায়হান হোসেন ও রিশাদ গুরুতর আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক যাত্রী মোঃ রায়হান হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মিশুকের চালক আরিফ হোসেন ও যাত্রী রিশাদকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
নিহত রায়হান হোসেন হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৯নং ওয়ার্ড এনায়েতপুর (রাজাপুর) গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। সে একটি মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগের ছাত্র।
এ ব্যাপারে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, নিহতের মরদেহ এবং মিশুক ও বালুবাহী ট্রাক পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
