
কচুয়া প্রতিনিধি ॥
কচুয়া উপজেলার নাউলা গ্রামের মৃত শহিদ উল্যাহর কিশোরী কন্যা রোজিনা আক্তার (১৪) তারই বাড়ীর লম্পট সুমনের দ্বারা অপগর্ভের শিকার হয়েছে। ৪ মাসের সন্তানের গর্ভপাত ঘটানোর কারণে রোজিনার প্রচুর রক্তপাত হয়। এতে তার জীবন হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ন। বর্তমানে সে কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪নং বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চলছে। এ ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর কচুয়া থানায় মামলা দায়ের হয়। মামলা নং-৪। মামলার অন্যতম আসামি উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামের অধিবাসী ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌসিকে পুলিশ ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রেফতার করে। ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারকৃত ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌসিকে চাঁদপুরের আদালতে হাজির করলে বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট ১৬৪ ধারায় তার জবান বন্দি রেকর্ড করে।
ভুক্ত ভোগী রোজিনার দেওয়া তথ্য মতে- রোজিনা এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সংসারের অভাব অনটন মেটাতে সুমনের গৃহে সে ‘ঝি’এর কাজ করতো। সুমন ৪ মাস পূর্বে রোজিনাকে একা গৃহে পেয়ে পর পর দু’দিন জোর পূর্বক ধর্ষন করে। এ ধর্ষনের ঘটনা প্রকাশ না করতে সুমন রোজিনাকে সাবধান করে দেয়। সাবধান করার পরও যদি রোজিনা ঘটনা প্রকাশ করে তাহলে তাকে হত্যা করে তার লাশ এমন ভাবে গুম করা হবে- যাতে তার নিকট আত্মীয়-স্বজনরা লাশের সন্ধ্যান না পায়। এমনি ভয় ভিতির প্রেক্ষিতে রোজিনা মুখ খোলেনি। কিন্তু ৪ মাসের অন্তসত্বা অবস্থায় রোজিনা উপায়ন্তর খুঁজে না পেয়ে সুমনের বড় ভাই বিল্লালের স্ত্রী কুলছুমাকে ঘটনা জানায়। কুলছুমা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও ঘটনা অবগত করায় এবং গর্ভের সন্তান বিনষ্ট করার জন্য কুলছুমা উদগ্রীব হয়ে ওঠে। কুলছুমা ও তার স্বামী বিল্লাল নাউলা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক খোকনের সহযোগিতায় ৫ সেপ্টেম্বর রোজিনাকে ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌসির (এইচ,ডি,এম,পি, স্বাস্থ্য) নিকট নিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। এতে রোজিনার প্রচুর রক্তক্ষর হওয়ার কারণে দিনের পর দিন রোজিনার অবস্থা অধিকতর শোচনীয় হতে থাকে। এমনি অবস্থায় ৯সেপ্টেম্বর তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয় এবং একই দিনে রোজিনার মা আছিয়া বেগম বাদী হয়ে সুমনসহ ৭ জনকে আসামী করে কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ মামলার অন্যতম আসামী ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌসিকে গ্রেফতার করলেও অন্যান্য আসামীদেরকে এপর্যন্ত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কচুয়া থানার সেকেন্ড অফিসার নাসির উদ্দিন জানান- অন্যান্য আসামীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতার করার জন্য জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ক’ব্যক্তি জানায়- সুমনের পরিবারের সদস্যরা বিত্তশালী। তারা ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে আড়ালে থেকে নানা ফন্দি আটছেন। এ অবস্থায় অপগর্ভের শিকার রোজিনা বিচার পাবে কিনা এমনি প্রশ্ন এলাকাবাসীর।
শিরোনাম:
শনিবার , ২ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
