স্টাফ রিপোর্টার
শিরোনাম:
শুক্রবার , ১ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ ২৫ এপ্রিল বুধবার হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন-২০১৮ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে ৬৩জন প্রার্থী ভোটার মন আকৃষ্ট করতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। তবে ২৯ পদের বিপরীতে এ নির্বাচনে ৬৩ জন প্রার্থী কয়েকদিন যাবৎ বাজারের বিভিন্ন মার্কেটগুলো সরগরম করে রেখেছেন। এতে ব্যবসায়ী ও ভোটাররা আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছেন। সে সাথে প্রার্থীদের পদচারনায় চাঙ্গা-চাঙ্গা ভাব ছিলো ভোটারদের মাঝেও। এমন দৃশ্য আবার কয়েকটি বছর পর ব্যবসায়ী ও ভোটাররা দেখতে পাবেন বলেই বিগত নির্বাচনকে হার মানিয়েছেন প্রার্থীরা। তাই তারা বাজারটিকে সরগরম করেই ভোটারদের কাছে সেভাবেই ভোট প্রার্থনা করছেন। চলতি বছরে ৬শ’রও বেশি নতুনভাবে ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে নতুন ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ২হাজার ৪শ’ ৪২ জন। নির্বাচনের আগের দিন (বুধবার) পর্যন্ত ভোটারদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েই বেশি জল্পনা-কল্পনা ও আলাপ-আলোচনা চলছে। এ দু’টি পদের ৪প্রার্থীর মধ্যে ২জন ব্যবসায়ীদের আগামী দিনের নেতা নির্বাচিত হবেন।
গত ৮ এপ্রিল প্রার্থীরা প্রতীক পাওয়ার পর থেকে রংবেরংয়ের ব্যানার, পোস্টার, প্লে-কার্ড ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো বাজারের অলিগলি। প্রত্যেক প্রার্থীই তাদের প্রাপ্য ভোটটাকে নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের দোকানে দোকানে গিয়ে করমর্দন করে আসতে দেখা যায়। আর এ আমেজে জমে ওঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। গতকাল ২৪ এপ্রিল বুধবার অনেক ভোটারের সাথে কথা হলে তারা এ প্রতিবেদকের কাছে ব্যক্ত করে বলেন, হাজীগঞ্জকে বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে ঘোষণা, বাজারকে সিসি ক্যামেরার আওতায়, সমিতির নিজস্ব ভবণ এবং বিগত নির্বাচনের মতোই যেন শান্তিপূর্ন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা ও ভোটাররা।
এদিকে হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ২৯টি পদের মধ্যে ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠলেও ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে সাবেক ১নং ওয়ার্ড কমিশনার আবু নোমান রিয়াজ এবং ২নং ওয়ার্ড কমিশনার পদে মেন্দু মিয়া ও আলহাজ্ব কবির আহম্মেদ এককভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ায় তাদের পদে নির্বাচন হবে না। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিজয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সূত্রধর, নির্বাচন কমিশনার ইকবালুজ্জামান ফারুক ও নির্বাচন কমিশন সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান বাবলু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি নির্বাচনে বিভিন্ন পদে প্রতীক পেয়েছেনÑ সভাপতি পদে গোলাপ ফুল প্রতীকে আশফাকুল আলম চৌধুরী ও বাই সাইকেল প্রতীকে আহসান হাবিব অরুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ পদে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটার ও সমর্থকরা। সহ-সভাপতি পদে মোমবাতি প্রতীকে আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, দোয়াত-কলম প্রতীকে জামাল উদ্দিন তালুকদার ও হারিকেন প্রতীকে দেলোয়ার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ পদে দু’ প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। সাধারণ সম্পাদক পদে ছাতা প্রতীকে হায়দার পারভেজ সুজন ও আনারস প্রতীকে সালাহ উদ্দিন ফারুক মামুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ পদে বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের রায় প্রত্যাশা করছেন সালাউদ্দিন ফারুক, তবে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে হাতি প্রতীকে গাজী মোঃ নাছির উদ্দিন, প্রজাপতি প্রতীকে শেখ তোফায়েল আহম্মেদ, কাপ-পিরিচ প্রতীকে আবুল কালাম আজাদ, বই প্রতীকে সাহাবুদ্দিন সাবু ও বাঘ প্রতীকে সাইফুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে একটি পদে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চাকা প্রতীকে মোঃ মাসুদ হোসেন, মই প্রতীকে আলী নেওয়াজ রোমান, মাছ প্রতীকে আবু হেনা বাবলু ও টেবিল প্রতীকে শহীদুল্যাহ প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এখানেও ফলাফলের অপেক্ষায় জয়-পরাজয় নির্ধারন হবে। কোষাধ্যক্ষ (অর্থ সম্পাদক) পদে সিলিং ফ্যান প্রতীকে হাছান মাহমুদ ও উড়োজাহাজ প্রতীকে মজিবুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নতুন প্রার্থী হিসেবে মজিবুর রহমান রনির উড়োজাহাজের পাল্লা ভারী বলে জানা যায়। দপ্তর সম্পাদক পদে তালাচাবি প্রতীকে আবুল কাশেম মুন্সী, কলম প্রতীকে মোরশেদুল আলম ও হরিণ প্রতীকে জামাল হোসেন মজুমদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচার সম্পাদক পদে আম প্রতীকে জসীম উদ্দিন, টেলিভিশন প্রতীকে ইমামুল হাসান হেলাল, বক প্রতীকে হারুন অর রশিদ, নলকূপ প্রতীকে কাউছার আহম্মেদ ও বটগাছ প্রতীকে বাহালুল আলম খোকন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আবু নোমান রিয়াজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাণিজ্য সম্পাদক পদে মোটর সাইকেল প্রতীকে মোশারফ হোসাইন লিটন ও স্টীল আলমারি প্রতীকে মোহাম্মদ হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শিল্প বিষয়ক সম্পাদক পদে দোয়েল পাখি প্রতীকে ইমরান হোসেন, টেবিল ফ্যান প্রতীকে সুমন কর্মকার, ঘুড়ি প্রতীকে ইলিয়াছ মিজি ও মাইক প্রতীকে হাফেজ মোঃ আবুল কাশেম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব পদে প্রার্থীদের মনোবল নিয়ে কাঙ্কখিত ফলাফলে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে।
কমিশনার পদে ১নং ওয়ার্ডে মোরগ প্রতীকে মোঃ মনির হোসেন, ডাব প্রতীকে মোশারফ হোসেন টিটু, বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীকে আকতারুজ্জামান, মোবাইল প্রতীকে জাকির হোসেন, জগ প্রতীকে মহিবুর রহমান খোকন। ২নং ওয়ার্ডে মোরগ প্রতীকে এসএম ইবরাহিম খলিল পাটওয়ারী, ডাব প্রতীকে মনির হোসেন সাগর ও মোবাইল সেট প্রতীকে রফিকুল ইসলাম। ৩নং ওয়ার্ডে ডাব প্রতীকে মোঃ মহিউদ্দিন, মোবাইল সেট প্রতীকে জিসান আহম্মেদ ছিদ্দিকী, হাতঘড়ি প্রতীকে অলি উল্যাহ, মোরগ প্রতীকে খন্দকার হারুন অর রশিদ ও বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীকে আমীর হোসেন। ৪নং ওয়ার্ডে আলহাজ্জ কবির আহম্মেদ ও মেন্দু মিয়া নির্বাচিত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। ৫নং ওয়ার্ডে মোবাইল সেট প্রতীকে মোঃ জামাল মিয়া, মোরগ প্রতীকে হাবিবুর রহমান, জগ প্রতীকে লিটন হোসেন, বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীকে খোরশেদ আলম ও ডাব প্রতীকে মিজানুর রহমান। ৬নং ওয়ার্ডে বালতি প্রতীকে মোঃ বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, মোবাইল সেট প্রতীকে নূরে আলম ভূঁইয়া সেলিম, মোরগ প্রতীকে তাপস সাহা, ডাব প্রতীকে নিতাই চন্দ্র সাহা ও বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীকে হেলাল উদ্দিন। ৭নং ওয়ার্ডে ডাব প্রতীকে দয়াল রঞ্জন চক্রবর্তী, হাত ঘড়ি প্রতীকে মাসুদ মজুমদার, মোবাইল সেট প্রতীকে আল আমিন, মোরগ প্রতীকে মানিক মজুমদার ও বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীকে অহিদুল ইসলাম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
আরও জানা গেছে, ১নং ওয়ার্ডে ৪৩১ জন, ২নং ওয়ার্ডে ২২৫ জন, ৩নং ওয়ার্ডে ৩৬৪ জন, ৪নং ওয়ার্ডে ১৯৬ জন, ৫নং ওয়ার্ডে ২২৮ জন, ৬নং ওয়ার্ডে ২০৬ জন ও ৭নং ওয়ার্ডে ৭৭২ জন ভোটার আগামী ২৫ এপ্রিল প্রত্যক্ষ ভোটে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন। ২৯টি পদের মধ্যে প্রতিটি সম্পাদকীয় পদে ১ জন করে ও ১নং ওয়ার্ডে ২ জন, ২নং ওয়ার্ডে ২ জন, ৩নং ওয়ার্ডে ৩ জন, ৪নং ওয়ার্ডে ২ জন, ৫নং ওয়ার্ডে ৩ জন, ৬নং ওয়ার্ডে ২ জন ও ৭নং ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থী নির্বাচিত হবেন।
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
