
শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
চাঁদপুর পুরানবাজারে কাজের মেয়ে তানজিলা আক্তার (৯) কে শ্বাসরোধ করে হত্যার নেপথ্যে পরকিয়া প্রেমের অনৈতিক কাজ দেখে ফেলায় ঘাতরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই পরকিয়া প্রেমিক-প্রেমিকা ও ঘটনার রাজ স্বাক্ষী আটক জোস্নার মেয়ে নুসরাত পলাতক রয়েছে। এই হত্যার ঘটনায় তানজিলার বাবা তৈয়ব আলী বেপারী বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ৪৭ তাং ২৬/১/১৬।
আজ বুধবার নিহত তানজিলা আক্তারের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। আটক ৩ আসামিকে আদালতে প্রেরন করলে তাদের জামিন নাকোচ করে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয় আদালত। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন পুলিশ। আজ বুধবার সন্ধ্যায় হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভাড়াটিয়া মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আটক করেছে পুরানবাজার ফাড়ির পুলিশ। একটি সূত্রে জানা গেছে, পুরানবাজার কলিবাগানের সুরুজ মহল এলাকার মৎস ব্যবসায়ী নান্টু হাওলাদারের স্ত্রীর জোস্নার বড় বোন প্রবাসীর স্ত্রী পারুল বেগমের সাথে মম ফ্যাক্টরী মৃত হানিফ জমাদারের ছেলে হাকি জমাদারের দীর্ঘদির পরকিয়া সম্পর্ক চলে আসছিলো। প্রবাসীর স্ত্রী পারুল ছোট বোন জোস্নার বাসায় থাকার সুবাধে হাকি ঐ বাসায় পরকিয়া প্রেমিকা পারুলের সাথে দেখা করতে আসা যাওয়া করতো ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরে নান্টুর স্ত্রী জোস্না পদ্মা লাইফ ইন্সুরেন্সে টাকা জমা দিতে নতুন বাজার যায়। সে সুযোগে তার পরকিয়া প্রেমিকা জোস্নার সাথে দেখা করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। বিকেল ঘনিয়ে আসলে কাজের মেয়ে তানজিলা বাইরে খেলাধূলা শেষে ঘরে ঢুকে দেখে ফেলে। এসময় নিজেদের অপরাধ ঢাকতে হাকি ও পারুল বেগম তানজিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘটনাকে অন্য দিকে প্রবাহিত করতে টয়লেটে লাশ ঢুকিয়ে আত্বহত্যা বলে চালানোর পায়তারা করে ,ঘটনার সময় জোস্নার মেয়ে নুসরাত সবকিছু দেখেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই নুসরাত নিখোজ রয়েছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে বাইরে থেকে কাজ শেষে জোস্না বেগম বাসায় ফিরে টয়লেটে গেলে তানজিলার লাশ দেখে আমার সব শেষ বলে চিৎকার করে ওঠে। ঘটনার পরপরই লাশ গুম করতে হাকির নেতৃত্বে কয়েকজন রাতে ট্রলার যোগে তানজিলার লাশ কাথা দিয়ে পেচিয়ে চরে নিয়ে যায়। হত্যার ঘটনা জানাজানি হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুরান বাজার পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে ফোন করে দাফন বন্ধ করে তানজিলার লাশ পুনরায় পুরানবাজারে পাঠাতে বলে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াই টায় তানজিলার লাশ নিয়ে পুরানবাজার আসার পর পুলিশ ঘটনার সাথে জরিত সন্দেহে নান্টুর হাওলাদারের স্ত্রী জোস্না বেগম (৩০) মম ফ্যাক্টরীর রওশন আলীর পুত্র নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬০) ও রওশন কুড়ালীর পুত্র আব্দুল খালেক (৬০) কে আটক করে।ঘটনার পর থেকেই পরকিয়া প্রেমিক হাকি ও প্রবাসির স্ত্রী পারুল বেগম পালিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ৯মাস পূর্বে তানজিলাকে মা বেগম তার খালাতো বোন জোস্না বাসায় কাজের করতে দেয়। সোমবার বিকেলে কাজের মেয়ে তানজিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করার পর টয়লেটের ভিতরে ঢুকিয়ে রাখা হয়ে। ঘাতকরা রাতের আধারে লাশ ট্রলার যোগে চরে নিয়ে গোপনে দাফন করতে চেষ্টায় ব্যর্থ হয়। লাশ নেওয়ার পর চরাঞ্চলের লোকজন ও তানজিলার আত্বিয় স্বজনরা তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত চিহ্ন দেখতে পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে মন্তব্য করে তার লাশ দাফনে বাঁধা প্রদান করে। পরে নান্টু ও তার শশুর শাহজাহান মোল্লা সহ তাদের কয়েকজন আত্বিয় স্বজন নিহত তানজিলার মা বেগমকে লক্ষ টাকার লোভ দেখিয়ে ও পুরান বাজার পুলিশ ফাড়ি এবং মডেল থানাকে ম্যানেজ করে পুনরায় লাশ দাফন করার জন্য অনুরোধ করে। এ খবর রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ৯নং ওয়ার্ডের হানিফ মেম্বার জানতে পেরে লাশ দাফন করতে বাধা প্রদান করে। পুরান বাজার পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের কথামত চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে দাফন বন্ধ করে তানজিলার লাশ পুনরায় পুরানবাজারে পাঠায়ে দেয়।
