শওকতআলী ॥
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় বেসরকারি উদ্যোগে দুই কর্মপরিকল্পনায় গৃহহীন পরিবারকে এ পর্যন্ত ১শ’ ৫২টি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় কর্মপরিকল্পনায় ২শ’ ঘরের মধ্যে ৪৮টি নির্মাণের কাজ চলছে এবং বাকীগুলো পর্যায়ক্রমে করা হবে। উভয় কর্মপরিকল্পনায় মোট ঘর নির্মাণ হবে ৩শ’ ১১টি। এসব ঘর নির্মাণ শেষ হলে খুব শীঘ্রই এ উপজেলাকে গৃহহীনমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হবে। এর ফলে এ উপজেলা সারা দেশের জন্য মডেল হিসেবে রূপান্তর হবে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে, ২০১৭ সালের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা প্রশাসকেদের সম্মেলনে নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। সে আলোকে ওই সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল জেলার মাসিক সমন্বয় সভায় জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নতুন কাজের আইডিয়া প্রদান করেন। সে আইডিয়ার সূত্র ধরে সেই সময়ের হাজীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার গৃহহীনদের তালিকা করে গৃহ নির্মানের পরিকল্পনা গ্রহন করেন। তখন থেকে বেসরকারি অর্থয়ানে শুরু হয় গৃহনির্মাণের কাজ।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়–য়া জানান, গৃহপ্রদানের পর সরকারী ব্যবস্থপনায় গৃহহীনদেরকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। এর মধ্যে যারা মাঠে জমি চাষাবাদ করে তাদেরকে সার কীটনাশক, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুবিধা, সুপেয় পানির জন্য টিউবয়েল, স্যানিটেশনের জন্য টয়লেট, সোলার সুবিধা, বিদ্যুৎ সংযোগ সুবিধা, ৪০ দিনের কর্মর্সচীতে অর্ন্তভূক্ত, পরিবার পরিকল্পনার অন্তর্ভক্ত, ভিজিএফ, ভিজিডি সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষন দিয়ে তাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে। সারাদেশে কোন গৃহহীন থাকবে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সূত্র ধরে জেলা প্রশাসক এর নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকার সূত্র ধরে হাজীগঞ্জে ২য় কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে গৃহনির্মান অচিরেই শেষ হয়ে গেলে আমরা উপজেলাকে গৃহহীন মুক্ত ঘোষনা করবো।
হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুর রশিদ জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সকল ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিকদের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহ করে এ কাজ করা হচ্ছে। গত ১৪ জানুয়ারী দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণলায়ের সচিব ড. মো. শাহ্ কামাল হাজীগঞ্জ সফরে আসেন। তিনি এসময় ১শ’ ঘর নির্মাণের যাবতীয় খরচ প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন। এ প্রকল্প শেষ হলে আমরা ফের ভূমিহীন তালিকা তৈরী করে সরকারি খাস জমিতে ভূমিহীনদেরকে ভূমি বন্দোবস্ত করে দেয়ার কাজ শুরু করবো।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, গত ১১ জানুয়ারী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজীগঞ্জের গৃহহীনদের বেসরকারি উদ্যোগে গৃহন নির্মাণের পরিকল্পনা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের পাশাপাশি সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হবে। তাহলেই হাজীগঞ্জ উপজেলা দেশের জন্য মডেল হবে বলেন জেলা প্রশাসক জানান।
