
শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কানুদী নদীর পাড় থেকে বস্তা বন্ধি গৃহবধু সুমি আক্তার (২৮) এর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে গৃহবধুর লাস ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। গৃহবধু সুমি আক্তার কে হত্যা করে শাহাদাত হোসেন তার খালাতো বোন বিষ্ণুপুরের মৃত আউয়ালের মেয়ে হালিমা (১৪) কে বিয়ে করে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। গৃহবধু মৃত্যুর ঘটনায় মতলব দক্ষিন থানা পুলিশ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড শোভনকর্দী গ্রাম থেকে শাহাদাত হোসেনে বাবা বাবুল সরকার ও মা মাহমুদা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানার এস.আই ওমর ফারুক বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। সেই মামলার আসামী দেখিয়ে গৃহবধুর শ্বশুর শ্বাড়–

কে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে তাদের ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। উল্লেখ্য, মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে হাটখোলা গ্রামের মেয়ে সুমির সাথে মতলব পৌরসভার শোভনকর্দী গ্রামের বাবুল সরকারের ছেলে শাহাদাত হোসেনের এক বছর পূর্বে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে বিয়ে হয়। সুমির প্রথম স্বামী প্রবাসী সিঙ্গাপুরে থাকায় সেসুযোগে শাহাদাত তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চাঁদপুর এনে তাকে বিয়ে করে। সুমির ২ সন্তান নিয়ে তার ২য় স্বামীর সাথে বিয়ের পর থেকেই তারা ঢাকার কামরাঙ্গীচরে বসবাস করতো। ঈদে বাড়িতে বেড়াতে আসে তারা। ঈদের পরদিন ১৯ জুলাই সুমিকে নিয়ে শাহাদাত তাদের তিন বছরের কন্যা শিশুকে বাড়িতে রেখে নৌকা দিয়ে ঘুরতে যায়। ওই দিন থেকেই সুমি নিখোঁজ থাকায় পরিবার ও আশপাশের বাড়ির লোকদের মাঝে সন্দেহ বাড়তে থাকে। সুমির কথা জানতে চাইলে শাহদাত বলে, সে তার অসুস্থ বোনকে দেখতে গেছে। এদিকে বিকালে চাঁদপুর সদর এলাকার কানুদী গ্রাম সংলগ্ন ধইঞ্চা ক্ষেতে একটি বস্তাবন্ধী লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী নৌ-পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে বস্তা থেকে লাশ বের করে আনলে ওই এলাকার লোকজন লাশটির পরিচয় সনাক্ত করে। (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়দের সংবাদের ভিতিত্তে চাঁদপুর নৌ-পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন কানুদী লঞ্চ ঘাট সংলগ্ন ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে সুমির মৃতদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুরে নিয়ে আসে। সুমী মতলব পৌরসভার শোভনকর্দী গ্রামের বাবুল সরকারের ছেলে শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী। এই ঘটনায় মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ সুমীর শ্বশুর বাবুল সরকার ও শ্বাশুড়ি মাহমুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। স্বামী শাহাদাত হোসেন পলাতক রয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, সুমিকে তার স্বামী শাহাদাত হোসেন মেরে পানিতে ফেলে চলে আসে। পরে তার খালাতো বোন বিষ্ণুপুরের হালিমাকে বিয়ে করে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয়। এই ঘটনায় মতলব দক্ষিনে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পরে। গৃহবধুর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পরে।
