শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
চাঁদপুর থেকে ঢাকা অভিমুখে ধারণ ক্ষমতার বাহিরে ২/৩গুন বেশী যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে যাত্রীবাহী লঞ্চ। শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল ২টা ৪০ পর্যন্ত চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এমন চিত্রই লক্ষ্য করাগেছে। লঞ্চে জায়গা না থাকার কারণে অনেক যাত্রীকে টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
পরিবারের সাথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষে কর্মমূখী মানুষ তাদের কাজে যোগ দিতে হঠাৎ করে গতকাল সকাল থেকে লঞ্চঘাটে আসতে থাকে। শরীয়তপুর জেলার চরাঞ্চাল, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর জেলাসহ চাঁদপুরের বেশীরভাগ মানুষই লঞ্চে যাতায়াত করে। এই সুযোগে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছেমত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপুর্ণ যাত্রা শুরু করছে।
হাজীগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী জেসমিন আক্তার জানান, শনিবার তাকে কাজে যোগ দিতে হবে। বাসেরও টিকেট পায়নি। কোন উপায় না পেয়ে লঞ্চে দাঁড়িয়ে রওয়ানা হয়েছে। যে কোন ভাবে তাকে ঢাকায় পৌঁছাতে হবে। এভি প্রিন্স অব রাসেল-৩ এর যাত্রী কাপড়ের দোকানের কর্মচারী শাহজাহান জানান, সকাল থেকেই লঞ্চঘাটে ভীড়। লঞ্চ আসলেই কয়েকগুন যাত্রী নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের পুর্বেই ছেড়ে যাচ্ছে। বসার জন্য কোন আসন পাইনি। দাঁড়িয়ে রওয়ানা হয়েছে। এমভি রফ রফ এর যাত্রী মাহমুদুল হাসান ও সুমন জানায়, লঞ্চের ২য় ও ৩য় তলায় কোন জায়গা নেই। তাই ছাদে দাঁড়িয়ে রওয়ানা হয়েছে। কারণ আগামীকাল তাদেরকে কাজে যোগ দিতে হবে।
লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি জানায়, ঈদের পরে তেমন ভিড় ছিলো না। গতকাল হঠাৎ যাত্রী সংখ্যা বেড়েগেছে। যাত্রীদের না উঠার জন্য নিষেধ করলেও তারা জোরপূর্বক লঞ্চে উঠছে। এই কারণে নির্দিষ্ট যাত্রীর চাইতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মোস্তফিজুর রহমান জানান, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চ যেন না ছাড়ে সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত। সকাল থেকেই লঞ্চঘাটে পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সকলেই কাজ করে যাচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে অনেক সময় যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

