
স্টাফ রিপোর্টার: ঃ চাঁদপুর নৌ সীমানায় অভিযান চালিয়ে নৌ-পুলিশ যাত্রীবাহী লঞ্চ গাজী সালাউদ্দিন থেকে ৩ হাজার কেজি জাটকা, ৫ মণ বড় ইলিশ, ২ মন টেম্পু ইলিশ জব্দ করে। এ সময় লঞ্চের মাষ্টার মোঃ ফারুক (৪৫) ও কেবিন বয় মনির জমাদার (২২) কে আটক করে। রবিবার রাত দেড় টায় এ অভিযান চালান ফাঁড়ি ইনচার্জ এস.আই মোঃ শহীদুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স। এছাড়া মেঘনা নদীতে আরেক অভিযানে রাতেই ০৩টি নৌকা, ২০ হাজার মিটার কোনা ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জাটকার মূল্য প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। নৌকার মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। জানা যায়, চাঁদপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই মোঃ শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে মেঘনা মোহনা থেকে রোববার গভীর রাতে বরিশালের বোরহান উদ্দিন থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ এম.ভি গাজী সালাউদ্দিনে অভিযান চালিয়ে ৩০ ড্রাম জাটকা, যার পরিমাণ ৩ হাজার কেজি। ৫ মণ ওজনের এক জুড়ি ইলিশ ও ০২ মণ ওজনের একটি টেম্পু ইলিশের জুড়ি জব্দ করে। জব্দকালে লঞ্চের মাল পরিবহনের দায়িত্ব থাকা মাল কেরানিকে আটক না করে লঞ্চের তৃতীয় শ্রেণির মাষ্টার মোঃ ফারুক ও ঘুমন্ত কেবিন বয় মনির জমাদারকে আটক করে বলে লঞ্চে দায়িত্ব থাকা মালিক প্রতিনিধি ও আটককৃতরা জানান। রাত আড়াইটায় একটি অটো বাইক এনে ফাঁড়ি ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম ৫ মণ ইলিশ পাচার করেছে বলে জানিয়েছেন ঐ এলাকার ছাত্রলীগ নেতা রুবেল খান ও মাছ আনলোডকারী লেবার আমির হোসেন (৩৫), শাহ আলম (৬০)সহ একাধিক লেবার। যা তদন্তকালে প্রকাশ পাবে। এ সময় এ প্রতিনিধি ছবি তুলতে গেলে তার সামনে ফাঁড়ি ইনচার্জ ব্যাগ ভর্তি করে জাটকা রাতেই বিভিন্ন লোকের কাছে বিলি করতে দেখেন। ইলিশ লঞ্চ থেকে আনলোডকারী লেবারদেরকে তাদের পারিশ্রমিক না দিয়ে ছোট সাইজের ৪টি করে ইলিশ নেওয়ার জন্য বললে তারা তা নেয়নি। লেবাররা ক্ষিপ্ত হয়ে পারিশ্রমিক না পেয়ে এ ইলিশ মাছ পাচারের তথ্য একাধিক সাংবাদিকের কাছে প্রকাশ করেন। এ ছাড়া রবিবার রাতে মেঘনা নদীতে অপর অভিযানে ৩টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা, ২০ হাজার মিটার কোনা ও কারেন্ট জাল জব্দ করেন। নৌকা জব্দকালে নৌকায় থাকা জেলেদেরকে ছেড়ে দেন বলে সচেতন জেলেদের কাছ থেকে জানা যায়।
এদিকে সোমবার দুপুর ১২ টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এন.ডি.সি মোঃ মাইনুল ইসলাম এক ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আটককৃত মোঃ ফারুক (৪৫) ও মনির জমাদার (২২) কে ৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার জরিমানা করেন। জব্দকৃত ৩ হাজার কেজি জাটকা বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করে ও ২০ হাজার মিটার জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। নৌকার মালিক না আসায় নৌকাগুলো নৌ-পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। উল্লেখ্য, চাঁদপুর নৌ সীমানায় ও ফাড়ি এলাকায় গিয়ে এলাকাবাসী ও সচেতন জেলেদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, বিগত বছরগুলোতে নৌ-ফাঁড়িতে দায়িত্ব থাকা ইনচার্জ নদীতে ব্যাপক অভিযানের ফলে জাটকা নিধন বন্ধ ছিল। বর্তমানে চাঁদপুর সদর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন কালে জেলেদের সাথে মাশহারার কন্টাক থাকায় নদীতে অভিযান কালে অসাধু জেলেরা জাটকা নিধন করলেও তাদেরকে আটক করা হচ্ছে না। অপর একটি সূত্রে জানায়, প্রতিটি নৌকায় নৌ ফাঁড়ির টোকেন দেওয়া থাকে। পুলিশের অভিযানকালে ঐ টোকেন দেখালে জেলেদেরকে আর আটক করা হয় না। এভাবে চলতে থাকলে এ বছর জাটকা নিধনের ফলে ইলিশ উৎপাদনে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা দেখা দিবে। যার ফলে সচেতন জেলে ও চাঁদপুরবাসীর দাবী বর্তমানে জাটকা মৌসুমে ইলিশ রক্ষার্থে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল ইসলামকে অন্যত্র বদলী করে নিয়ে যাওয়া হোক। তাহলে এ বছর ইলিশ উৎপাদন বিগত বছরের তুলনায় আরো বেশি হবে। এলাকাবাসী আরো জানান, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এ ধরনের কাযক্রম এ ফাঁড়িতে আসার পর থেকেই করে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে পত্র পত্রিকায় একাধিকবার রিপোর্ট প্রকাশ হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
