চাঁদপুরে স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায়
প্রতিনিধি
চাঁদপুর সদর উপজেলা শাহতলীতে স্বামীর পাশবিক শারীরিক নির্যাতনে ১ সন্তানের জননী গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুশয্যা অবস্থা রয়েছে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি গতকাল রবিবার ১২ মার্চ সকাল ১০টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামের গাজী বাড়িতে ঘটেছে।
জানা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার টোরাগড় গ্রামের হাজী বাড়ির মোঃ কবির হোসেনের মেয়ে রুবি আক্তারের সাথে শাহতলী গাজী বাড়ির ছিদ্দিক গাজীর ছেলে জাহিদ গাজী সাথে তিন বছর পূর্বে ইসলামী শরাহ্ মোতাবেক বিবাহ হয়। ওই সময় রুবির পিতা মেয়ের সুখের কথায় চিন্তা করে জামাইকে নগদ ৫০হাজার টাকা এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র দেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পরই যৌতুকসহ বিভিন্ন অজুহাতে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে দেয় রুবির স্বামী, শশুর, শাশুড়ীসহ ননদরা। গৃহবধু রুবির উপর এ নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকে। তারই ধারাবাহিকতা রবিবার সকাল ১০টায় রুবির পিতার কাছ থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে চাপ প্রয়োগ করে স্বামী জাহিদ গাজী। আর এ টাকা এনে দিতে পারবেনা বলে অস্বীকৃতি জানায় গৃহবধূ রুবি। এটি বলার পর পরই রুবিকে রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পাষন্ড স্বামী জাহিদ। এতে রুবির শরীরের বিভিন্ন অংশসহ পায়ের রগ কেটে যায়। পরে খবর পেয়ে পিতা কবির হোসেন রুবির শশুর বাড়িতে গেলে তার মেয়েকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আনতে চাইলে পাষন্ড স্বামী ও শ^শুরালয় পক্ষ দিতে চায়নি। এরই মধ্যে তার মেয়ের অবস্থা বেগতিক হলে রুবির শশুর বাড়ির অন্যান্য লোকদের সহায়তায় তাকে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পরে রুবিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে রুবির অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক ও তার পরিবার লোকজন।
গৃহবধূ রুবি বলেন, আমার স্বামী বিয়ের পর থেকে নানা অজুহাতে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করতো। আমি আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কিছু সহ্য করে যাই। আমার স্বামীকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে আমি অস্বীকৃতি জানালে আমাকে রড দিয়ে মারাত্মতক ভাবে আহত করে। আমার পিতা চিকিৎসার জন্য আনতে চাইলে তারা বাধা দেয়। পরে ওই বাড়ির লোকদের সহায়তা হাজীগঞ্জে এনে চিকিৎসা দিচ্ছে। এজন্য আমি জেলা পুলিশ সুপারের নিকট ন্যায় বিচার প্রার্থী।